জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্ব ঘিরে এবার নিশার চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। এতদিন নিশার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দর্শকদের বেশ পছন্দের ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সংলাপ এবং আচরণে সেই চরিত্রের মধ্যেই যেন অতিরিক্ত নেতিবাচকতা দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে জিৎকে ঘিরে নিশার মন্তব্য একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, কোনও চরিত্রের রাগ, অভিমান বা প্রতিবাদ দেখাতে গিয়ে এমন সংলাপ ব্যবহার করা ঠিক নয়, যা চরিত্রটিকেই দর্শকের কাছে অস্বস্তিকর করে তোলে। ফলে নিশাকে নিয়ে আগের ভালো লাগার জায়গাটিই ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
দর্শকদের মূল আপত্তি নিশার একটি মন্তব্যকে ঘিরে। জিৎকে মানসিকভাবে নির্যাতনকারী স্বামীর সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি তাঁদের কাছে একেবারেই যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, জিৎ আদৌ নিশার সঙ্গে সেই ধরনের আচরণ করেছে কি না, তা গল্পে কোথায় দেখানো হয়েছে? বরং জিৎকে নিশার প্রতি যত্নশীল হতে এবং পাশে দাঁড়াতেই দেখা গিয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। এমনকি জিৎ নিজের হাতে নিশাকে খাইয়ে দেওয়া বা তাঁর যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়কেও যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত আচরণ হিসেবে দেখা হয়, সেটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে দর্শকদের। তাঁদের মতে, জিৎকে নিয়ে নিশার রাগ বা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁর প্রতিটি আচরণকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। এতে নিশার প্রতিবাদী সত্তার বদলে তাঁকে ক্রমশ বিষাক্ত চরিত্র হিসেবেই মনে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
একইসঙ্গে জিৎ এবং নিশার সম্পর্কের গল্পে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে দর্শকদের। তাঁদের বক্তব্য, এই পর্বে জিৎ এবং নিশাকে ঘিরে কিছুটা নতুন সমীকরণের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের একসঙ্গে অল্প সময়ের দৃশ্যেও উজিকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে জিৎ এবং নিশার সম্পর্কের যে জায়গাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, সেটিও ঠিকভাবে ফুটে উঠছে না বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে মাত্র কয়েক মিনিটের একটি দৃশ্যকে যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করে তোলা হয়, তাহলে সেই সম্পর্কের স্বাভাবিক আবেগটাই হারিয়ে যায় বলে মত একাংশের। তাঁদের প্রশ্ন, গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি করার সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে?
তবে জিৎকে নিয়ে নিশার ক্ষোভের কারণ যে একেবারে নেই, সেটাও মানছেন দর্শকরা। নিশার বিয়ের দিন জিৎ তাঁকে যে পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছিলেন, সেটিকে তাঁরা নিঃসন্দেহে ভুল এবং অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে একজন পুলিশ আধিকারিকের এমন আচরণকে সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও মনে করেন অনেকে। কিন্তু সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিশা যা খুশি বলতে বা করতে পারেন কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। দর্শকদের একাংশের মতে, গল্পের প্রয়োজনে কিছুদিন জিৎকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর পর আবার তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিশার আচরণও ক্রমশ একপেশে হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তাঁরা। ফলে প্রতিশোধ বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের গল্পের বদলে নিশার চরিত্রের অস্বাভাবিক নেতিবাচকতাই এখন বেশি চোখে পড়ছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ ‘নচিদা আমায় কোনদিনও স্ট্রাগল করতে দেননি…নিয়তি বা ভাগ্য বলে যদি কিছু থাকে, আমার জন্য সেটাই নচিকেতা চক্রবর্তী!’ কেরিয়ারের শুরুতে গায়িকার পাশে দাঁড়িয়ে কীভাবে বদলে দিয়েছিলেন জীবন? গায়কের জন্মদিনে আবেগঘন স্মৃতিচারণ শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
এর পাশাপাশি পুরনো নিশাকেই ফের দেখতে চান দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, নিশার আগের সেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সাহস এবং অন্যরকম ব্যক্তিত্বই ছিল চরিত্রটির আসল আকর্ষণ। এমনকি তাঁর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সময়কার চরিত্রটিও অনেকের কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল, কারণ তখনও তাঁর মধ্যে নানা রকম স্তর দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে বারবার নেতিবাচক সংলাপ এবং আচরণের মাধ্যমে সেই চরিত্রটিকে একমাত্রিক করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এত ভালো একজন অভিনেত্রীকে দিয়ে নিশার আরও অনেক দিক তুলে ধরা যেত বলেও মনে করছেন তাঁরা। তাই নির্মাতাদের কাছে দর্শকদের প্রশ্ন, গল্পে নতুন মোড় আনার নামে নিশার চরিত্রটিকেই কি ধীরে ধীরে অপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে? নাকি আগামী দিনে নিশার অন্য কোনও দিক সামনে এনে আবারও দর্শকদের পুরনো ভালো লাগার জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে?
