অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, তাঁকে নিয়ে যতই বিতর্ক হোক না কেন বাস্তবে তিনিও একজন মা! মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা বিশেষ সেই প্রমাণ আগেও বহুবার মিলেছে। আর সম্প্রতি মেয়ে ভুটুনের সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। ছবির সঙ্গে লেখা তাঁর দীর্ঘ বার্তায় উঠে এসেছে মেয়েকে ছেড়ে আবার দূরে চলে যাওয়ার কষ্ট। স্বস্তিকার কথায়, ছোট্ট ভুটুন এখনও যেন তাঁর সেই চাঁদের কণা হয়েই রয়েছে। কিন্তু এবার মায়ের চলে যাওয়ার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মেয়ের মন খারাপ বাড়ছে। গত রাত থেকে মেয়ে খুব কাঁদছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। মেয়েকে বোঝাতে গিয়ে স্বস্তিকা নিজের অভিনয় করা একটি পুরনো ছবির দৃশ্যের কথাও মনে করেছেন। বাস্তব জীবনের এই মুহূর্ত যেন তাঁকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে সেই সিনেমার গল্পের কাছেই।
স্বস্তিকা লিখেছেন, তিনি ‘শবর’ সিরিজের প্রথম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, যেটি বিশাল সাফল্য পেয়েছিল। সেই ছবিতে দীপঙ্কর দে তাঁর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে স্বস্তিকার চরিত্র পন্ডিচেরিতে থাকে এবং তাঁর বাবা কিছুদিন মেয়ের কাছে থেকে আবার কলকাতায় ফিরে যান। একটি দৃশ্যে মেয়ে বাবাকে আরও কয়েকটা দিন থেকে যাওয়ার অনুরোধ করে। বলে, সে বাবার একমাত্র মেয়ে, তাই কলকাতায় ফিরে না গিয়ে তাঁর কাছেই যেন থেকে যান। কিন্তু সিনেমার সেই বাবা তখন মেয়েকে বোঝান, কলকাতায় তাঁর অনেক কাজ ও দায়িত্ব রয়েছে, তাই তাঁকে ফিরতেই হবে। স্বস্তিকার কথায়, “সেই বললে কী আর হয় রে মা?! কলকাতা ফিরে কত কাজ, কত দায়িত্ব, এই তো এতগুলো দিন তোর কাছে থেকে গেলাম, আবার আসব।”
সেই সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে নিজের জীবনের স্মৃতির অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন স্বস্তিকা। তাঁর লেখায় এসেছে, ছবির বাবা যেমন আর ফিরে আসেননি, তেমনই তাঁর নিজের বাবাও আর ফিরে আসেননি। দুজনেরই যেন অন্য পাড়ে যাওয়ার তাড়া ছিল এবং সেখানে কেউ অপেক্ষা করছিলেন। এই প্রসঙ্গে অপেক্ষা, ভালোবাসা আর উদ্বেগ মিশে থাকা অনুভূতির কথাও লিখেছেন অভিনেত্রী। সিনেমার সেই দৃশ্যে যেমন তিনি বাবাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, বাস্তব জীবনেও এখন মেয়ের মন খারাপ তাঁকে একইরকমভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে বোঝাতে তিনি সিনেমার বাবার মতোই বলছেন, এতদিন তো একসঙ্গে থাকা হয়ে গেল, আবার দেখা হবে। সামনে ভুটুনকেও বাড়ি ফিরতে হবে, আর মাঝের এই কয়েকটা মাস চোখের পলকেই কেটে যাবে বলে মেয়েকে বোঝাচ্ছেন তিনি।
স্বস্তিকা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই ভুটুন বাড়ির বাইরে থেকেছে। প্রথমে বম্বেতে এবং পরে ইংল্যান্ডে থেকেছে সে। তাই এর আগে বহুবার মেয়েকে ছেড়ে থাকতে হয়েছে তাঁকে। কখনও আগের চেয়ে বেশি সময় থেকেছেন, কখনও আবার কম। কিন্তু এবার ভুটুনকে যেভাবে মন খারাপ করতে দেখছেন, এমনটা আগে কখনও দেখেননি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। মেয়ের কান্না দেখে তাঁর নিজেরও মন হুহু করে উঠছে। বাইরে থেকে অবশ্য নিজেকে খুব বাস্তববাদী রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। মেয়েকে বলছেন, “কোনও ব্যাপার না”, অথচ নিজের লেখা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ফেরার বিমানে উঠলে চোখের জলে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁরও রয়েছে। নিজের আবেগ লুকিয়ে শক্ত থাকার এই চেষ্টা নিয়েই স্বস্তিকা লিখেছেন, “এখন শক্ত থাকার অভিনয় করছি, আমরা মা এরা যেমন করে থাকি।”
আরও পড়ুনঃ “পার্বতী পারুলের মেয়ে নয়! রাজনন্দিনী যেমন অপর্ণা হয়ে ফিরেছিল, পারুলও পার্বতী হয়ে ফিরেছে” পারুলের মৃ’ত্যুর পর হুবহু তাঁর মতো পার্বতীর এন্ট্রি, জন্মান্তরের গল্পেই কি তবে নতুন মোড়? একই গল্পের পুনরাবৃত্তি, এবার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর ছাঁচেই নিজেকে ফেলছে ‘পরিণীতা’? কী মনে হয় আপনাদের?
মেয়ের মুখ দেখলেই স্বস্তিকার মনে পড়ে যায় বহু বছর আগের সেই মুহূর্ত, যখন নার্সিংহোমে প্রথম ভুটুনকে দেখেছিলেন তিনি। কাপড়ে মোড়া ছোট্ট শিশুকে দেখে মেট্রন এসে তাঁকে বলেছিলেন, চোখ খুলে দেখুন, কী সুন্দর মেয়ে হয়েছে। সেই প্রথম দেখা, সেই শিশুর গায়ের দুধ আর বমি মেশানো বিশেষ গন্ধ এখনও তাঁর স্মৃতিতে একইভাবে রয়ে গিয়েছে। স্বস্তিকা লিখেছেন, সেই শিশুর গন্ধের সঙ্গে তাঁর সারাজীবনের এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। মেয়েকে নিজের “গোটা হৃদয়” বলে উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের এই মুহূর্ত যতই কষ্টের হোক, খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে তাঁদের। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে উদ্দেশ্য করেই তিনি লিখেছেন, “আমার সোনা মা, আমার গোটা হৃদয়টা, এই তো খুব শিগ্গিরি দেখা হবে।”
