বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসকে। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসের ভাইকে আটক করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে। দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ায় বিশ্বাস ব্রাদার্সকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু শিল্পী প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, স্টুডিওপাড়ার অন্দরে তাঁদের প্রভাব এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ ছিল। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অভিযোগ আরও জোরালোভাবে সামনে আসে। এই আবহেই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন একসময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী তথা অভিনেত্রী তিথি বসু। ‘মা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর এবার তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরলেন প্রকাশ্যে।
আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিথি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবর তাঁকে খুশি করেছে। তিনি বলেন, “বিশ্বাস ব্রাদার্স মিলে ইন্ডাস্ট্রিতে শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমিও এঁদের দু’জনের জন্য অনেক কাজ হারিয়েছি। এমনও হয়েছে, প্রায় হাতে চলে আসা কাজ চলে গিয়েছে একেবারে শেষমুহূর্তে, তার জন্য দায়ী এঁরা।” তিথির দাবি, একাধিকবার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে যেখানে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও তিনি এও জানান যে, ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে নিয়ে স্বরূপ বা অরূপ বিশ্বাস সরাসরি কোনও মন্তব্য করেছেন বলে তাঁর জানা নেই। তবু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, তাঁদের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
অভিনেত্রী আরও জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডাকশন কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেও তাঁর বাবার পেশাগত ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পরিবারের উপর পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিথি। তাঁর কথায়, “দেখুন, আমার বাবাও কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডাকশন কন্ট্রোলারের কাজ করেন। একাধিক বড় প্রযোজনায় সংস্থায় কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। তবে তিনি যেহেতু বিজেপি-কে সমর্থন করেন…” এই প্রসঙ্গেই তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেন, যা নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিথির দাবি, তাঁদের এলাকায় বিধায়ক হিসেবে অরূপ বিশ্বাস গেলে তাঁর মায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “একাধিকবার অরূপ বিশ্বাস আমাদের পাড়ায় যখন আসতেন বিধায়ক হিসেবে, তখন তিনি আমার মা’কে বলেছেন, ‘দিদি, দাদাকে একটু বোঝান যাতে এসব না করে।’” তিথির মতে, এর অর্থ ছিল তাঁর বাবা যেন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে তৃণমূলকে সমর্থন করেন। এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখেননি। অভিনেত্রী বলেন, “তাই আমি খুব খুশি আজ।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বাইরে গিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান।
আরও পড়ুনঃ অনির্বাণের মতো প্রতিভাবান অভিনেতাকে ব্যান করার শাস্তি আজ নিজেই ব্যান স্বরূপ! ‘খাঁ’ড়া হাতে বিপত্তারিণী…’ সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা!
টলিউডের আগামী দিনের পরিবেশ নিয়ে নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়েছেন তিথি বসু। তাঁর বক্তব্য, “আমি আন্তরিকভাবে চাই ইন্ডাস্ট্রিতে যেন সবাই কাজ পান এবার তাঁদের যোগ্যতা অনুসারে। কেউ যেন রাজনৈতিক কারণে কাজ না পান, কেউ যেন টাকা খাইয়ে কাজ না পান, এটুকুই আশা।” তিনি মনে করেন, শিল্পীদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত শুধুমাত্র তাঁদের দক্ষতার ভিত্তিতে। এদিকে অভিনয় জগতেও নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত হতে চলেছেন তিনি। তিথি জানান, খুব শিগগিরই একটি নতুন ছবিতে দেখা যাবে তাঁকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ অবলম্বনে তৈরি সেই ছবির নাম ‘শেষ থেকে শুরু’। ছবিটি পরিচালনা করছেন বৈশাখী মজুমদার, আর সেই কাজ নিয়েই এখন নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন অভিনেত্রী।
