বাংলা অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ লাবনী সরকার (Laboni Sarkar) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন কিছু অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং মানসিক শক্তির এক অন্য দিক সামনে এনেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই জীবন আমাকে যা সুখ, যন্ত্রণা দেবে আমাকে দু-হাতে অঞ্জলিভরে পান করতে হবে।” এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, লড়াই এবং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা। অভিনেত্রীর মতে, জীবনে সুখ যেমন আসে, তেমনই যন্ত্রণাও আসে, আর সেই দুটোকেই সমানভাবে গ্রহণ করাই তাঁর জীবনের শিক্ষা। কঠিন সময়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে তিনি তাকে নিজের জীবনের অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে লাবনী সরকার আরও জানান, জীবনের কঠিন মুহূর্তে তিনি খুব কমই অন্যের ওপর নির্ভর করেছেন। নিজের আনন্দ, কষ্ট কিংবা মানসিক যন্ত্রণা তিনি বরাবর নিজের মধ্যেই ধরে রেখেছেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আমার খারাপ লাগা, অঝোরে ঝরে পড়া চোখের জল শুধু আমার বালিশই জানে।” এই কথায় তাঁর দীর্ঘদিনের নীরব লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। বাইরে থেকে দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও, ব্যক্তিগত জীবনে যে তিনিও বহু কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, সেই কথাই অকপটে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
লাবনী সরকারের কথায়, ছোটবেলায় তাঁর বাবা তাঁকে এমন একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, যা আজও তাঁর জীবনের পথপ্রদর্শক। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে নিজের দিকে তাকাতে হবে এবং নিজেকে সম্মান করতে পারলেই বুঝতে হবে, তিনি সঠিক পথে রয়েছেন। সেই শিক্ষাকেই জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে নয়, নিজের বিবেকের কাছেই আগে সৎ থাকা জরুরি। তাই জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের আত্মসম্মান এবং মূল্যবোধ থেকে কখনও সরে আসেননি।
অভিনেত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও শক্ত করেছে। সুখ কিংবা যন্ত্রণা, কোনওটাকেই তিনি আলাদা করে দেখেন না। বরং প্রতিটি অনুভূতিকে জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করেন। তাই তিনি বলেন, “এই জীবন আমাকে যা সুখ, যন্ত্রণা দেবে আমাকে দু-হাতে অঞ্জলিভরে পান করতে হবে।” তাঁর এই উপলব্ধি শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয়, বরং কঠিন সময়ের মধ্যেও নিজেকে ধরে রাখার এক মানসিক শক্তির প্রকাশ। বাস্তবকে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলাই তাঁর জীবনের অন্যতম দর্শন।
আরও পড়ুনঃ “ছোট ও বড়দের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম বিভাজন ছিল, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেই আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হতো” খারাপ শব্দ বলারও ছিল ভয়! অথচ নতুন প্রজন্মের কাছে অপশব্দ ব্যবহার হয়ে দাঁড়িয়েছে “নিউ থিং”! অতীত আর বর্তমানের মূল্যবোধের ফারাক নিয়ে অকপট বাচিক শিল্পী, ঊর্মিমালা ও জগন্নাথ বসু!
এই সাক্ষাৎকারে লাবনী সরকারের কথায় বারবার উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, জীবনে সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় পাওয়া যায় না, তবু থেমে থাকলে চলবে না। নিজের কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। তাই ব্যক্তিগত জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলতে গিয়েও তিনি কোনও অভিযোগ করেননি। বরং জীবনের প্রতিটি সুখ ও দুঃখকে সমানভাবে গ্রহণ করার বার্তাই দিয়েছেন। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠতে পারে।
