বিনোদন দুনিয়ায় প্রথম দেখায় গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করে শারীরিক গঠন ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের উপর। ক্যামেরার ফ্রেমে কাকে মানাবে, কাকে মানাবে না—এই বিচারেই অনেক সময় থেমে যায় সাধারণ শিল্পীদের স্বপ্নের যাত্রা। উচ্চতা, ওজন, মুখের গড়ন—সবকিছুই যেন অদৃশ্য এক পরীক্ষার অংশ। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার অদম্য জেদ আর নিজেকে বিশ্বাস করার শক্তি।
ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন অভ্রজিত চক্রবর্তী। ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, রোগা-পাতলা গড়নের এই যুবককে দেখে অনেকেই বলেছিলেন, “এই ছেলে স্ক্রিনে আটবে না।” ডিরেক্টরদের একাংশ ক্যামেরার সামনে তাঁকে নিতে চাইতেন না, এবং অভিনেতাকে উট বলে তাচ্ছিল্য করা হতো। কিন্তু অভিনয়ের নেশা ছিল রক্তে। থিয়েটার থেকেই তাঁর অভিনয়ের হাতেখড়ি, সেখানেই নিজেকে তৈরি করেছিলেন তিনি।
ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ২৩ বছরের সফরে অভ্রজিত চক্রবর্তী করেছেন নেগেটিভ ও পজিটিভ—দু’ধরনের চরিত্রই। কখনও ভিলেন, কখনও নায়কসুলভ উপস্থিতি। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও এসেছে কম নয়। বড় কোনও জাতীয় পুরস্কার এখনও তাঁর ঝুলিতে নেই, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা কখনও কমেনি। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন নতুন করে।
পুরস্কারের মঞ্চে নাম না উঠলেও, অভ্রজিত পেয়েছেন এমন এক স্বীকৃতি যা অমূল্য—দর্শকের ভালোবাসা। চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকের ‘কিংকর’ চরিত্রে তাঁকে দেখলেই যে মুখটা মনে ভেসে ওঠে, সেটাই তাঁর সাফল্যের প্রমাণ। এই ভালোবাসাই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে আজ এক পরিচিত ও প্রিয় মুখ করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় ভরাডুবি জি বাংলার, স্টার জলসার একছত্র রাজ! ‘পরিণীতা’ ছাড়া, তালিকা থেকেই ছিটকে গেল ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’, নেই ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’!
শুটিং সেটের আলো-ছায়ার মাঝেই শুরু হয়েছিল তাঁর প্রেমকাহিনি। সহকারী পরিচালক রিনিকা সাহার সঙ্গে দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্ক গিয়ে পরিণতি পায় ২০২২ সালের বিয়েতে। বয়সের পার্থক্য থাকলেও মানসিক মিল ছিল দৃঢ়। ২০২৩ সালে তাঁদের জীবনে আসে ছোট্ট রাজপুত্র। পর্দায় নায়ক, বাস্তবে একজন স্বামী ও বাবা—এই দুই সত্তার লড়াইয়েই গড়ে উঠেছে অভ্রজিত চক্রবর্তীর আসল গল্প।
