টলিপাড়ার একসময়ের জনপ্রিয় পাওয়ার কাপল জিতু কমল ও নবনীতা দাসের বিচ্ছেদ অনেকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মুখেই সেই বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছিলেন নবনীতা। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই বড় পরিবর্তনের পর তিনি কতটা বদলেছেন? প্রাক্তন সম্পর্ককে তিনি কীভাবে দেখেন? আবার নতুন করে বিয়ে বা মা হওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাবনা কী, এই সবকিছু নিয়েই এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের মনের কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।
বিচ্ছেদের পর একা থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে নবনীতা জানান, এই সময়টা তাঁর জীবনে একেবারেই নতুন অধ্যায়। আগে কখনও একা থেকে সংসার সামলানোর অভিজ্ঞতা ছিল না, তাই শুরুটা ছিল একরকম ‘ট্রায়াল’। ছোট ছোট কাজ যেমন গ্যাস বুকিং থেকে বাড়ির নিরাপত্তা সবকিছু নিজে সামলাতে গিয়ে তিনি বুঝেছেন জীবনের বাস্তব দিকটা। তাঁর কথায়, একা থাকলে কাউকে দোষ দেওয়ার সুযোগ থাকে না, নিজের ভুল নিজেকেই বুঝে নিতে হয়। আর এই প্রক্রিয়াই তাঁকে আরও পরিণত করেছে।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি কতটা বদলেছেন, এই প্রশ্নে নবনীতার উত্তর বেশ স্পষ্ট। তাঁর মতে, ভেতরের মানুষটা খুব একটা বদলায়নি, তবে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। আগে শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি জীবনকে দেখতেন, এখন সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে আরও বড় পরিসরে মানুষ ও সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করছেন। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, নতুন অভিজ্ঞতা, সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের লেন্সটা বদলেছে।
প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মনোভাবও বেশ পরিণত। নবনীতার কথায়, “প্রাক্তন মানেই তিক্ততা” এই ধারণায় তিনি বিশ্বাসী নন। বরং জীবনের একটি অধ্যায় হিসেবে তিনি সেই সম্পর্ককে দেখেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন , সোশ্যাল মিডিয়া বা আশেপাশের মানুষ যখন পুরনো প্রসঙ্গ তুলে আনেন, তখন কখনও কখনও তা কষ্ট দেয়। অনেক সময় তিনি সেই স্মৃতি ভুলে যান, কিন্তু হঠাৎ করে কেউ মনে করিয়ে দিলে আবার সেই অনুভূতিগুলো ফিরে আসে।
বিয়ে নিয়ে তাঁর বর্তমান ভাবনাও যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। এই মুহূর্তে তিনি নিজের মতো করে জীবনটা উপভোগ করছেন এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোটা তাঁর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে বিয়ের কোনও তাড়াহুড়ো নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বরং নিজের কাজ, নিজের পছন্দ এবং মানসিক শান্তিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, সে বিষয়ে একেবারে দরজা বন্ধও করে দেননি।
আরও পড়ুনঃ র’ক্তের রং মিশছে নতুন অর্থে! ২০ বছর পর পাল্টানো পৃথিবী, হাওড়া ব্রিজের নিচে গড়ে উঠছে কোন গল্প? সৃজিতের নতুন ছবির পোস্টার ভাইরাল! কবে মুক্তি, কে থাকছেন মুখ্য ভূমিকায়?
অন্যদিকে, মা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে নবনীতা একেবারেই খোলামেলা। তিনি জানান, বাচ্চা তাঁর ভীষণ প্রিয় এবং তিনি মা হতে চান। এমনকি সিঙ্গেল মাদার হওয়ার বিষয়টিও তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তাঁর মতে, সমাজের চেনা কাঠামোর বাইরে গিয়েও নিজের মতো করে জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। সব মিলিয়ে, নবনীতা দাসের এই নতুন জীবন যেন এক আত্মঅন্বেষণের যাত্রা, যেখানে অতীত আছে, কিন্তু তা ভবিষ্যতের পথে বাধা নয়।
