জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘তুমি ওর মা নও, আমি ওর মা’ পিঠোপিঠি ভাই-বোন, তবু শুভশ্রী ও রাজের সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক! ইউভান ও ইয়ালিনির মধ্যে ‘সিবলিং রাইভলরি’ দূর করতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী?

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং তার স্বামী রাজ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের পাশে রয়েছেন। তাদের দুটি সন্তান, ইউভান ও ইয়ালিনি, এখন তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউভান যখন মাত্র তিন বছর বয়সের ছিল, তখনই তাদের পরিবারে আসে ছোট্ট ইয়ালিনি। দুই সন্তানের মধ্যে বয়সের ফারাক প্রায় তিন বছর হলেও, শুভশ্রী এবং রাজ একেবারে শুরু থেকেই তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন। বিশেষ করে, মা হওয়ার পরেও শুভশ্রী যে তার দুই সন্তানের প্রতি বিশেষ যত্নশীল, তা স্পষ্ট হয়েছে তার প্রতিদিনের কাজকর্মে।

শুভশ্রী জানান, ইয়ালিনির জন্মের পর ইউভান যাতে কোনভাবেই অবহেলার শিকার না হয়, সে জন্য তিনি বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ইউভান সবসময় তার ছোট বোনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। বোন কাঁদলে তাকে শান্ত করা, আদর করা— ইউভান যেন একটি ‘মাদার ফিগার’। শুভশ্রী বলেন, ইউভান কখনোই ইয়ালিনিকে ঈর্ষা করেনি। বরং সে তার বোনকে খুব ভালোবাসে এবং তাকে নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে।

সন্তানদের মধ্যে ঈর্ষা বা সিভলিং রাইভলরি দূর করতে শুভশ্রী তার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ইয়ালিনির জন্মের আগে থেকেই তিনি ইউভানকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সে বড় ভাই হতে চলেছে এবং তার কিছু নতুন দায়িত্ব বাড়বে। শুভশ্রী বই পড়ে বাচ্চাদের মনস্তত্ত্বও বুঝতে চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য ছিল, ইউভানের মনে যেন কোনো ধরনের অবহেলার অনুভূতি না জন্মায়। এজন্য হাসপাতালের বেডের পাশে ইউভানের ছবি রেখে দেন, যাতে তার মনে হয়, সে মায়ের কাছেই রয়েছে।

শুভশ্রী তার শাশুড়ি ও ননদদেরও বিশ্বাস করেন, যারা দুই সন্তানের প্রতি সমানভাবে মনোযোগী। স্বামী রাজও তার রাজনৈতিক ও পরিচালনার কাজের পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন। রাজের সহায়তায় শুভশ্রী একান্তে নিজের ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে ভুলেন না। সম্প্রতি, ছুটি কাটাতে দুবাই যাওয়ার সময়, ইউভানকে তার মা নিয়ে গিয়েছিলেন, আর ইয়ালিনি তখন কলকাতাতেই ছিল। এমনকি, এই ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে শুভশ্রী তার ছেলেকে শিখিয়ে দিয়েছেন, দায়িত্বশীল হলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

সবশেষে, শুভশ্রী মনে করেন, বড় সন্তানকে ছোট ভাই বা বোনের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুললে তাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়। ইউভান এবং ইয়ালিনির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ তিনি আগেই শুরু করেছেন। ইউভান এখন শুধু দাদা নয়, ইয়ালিনির ছোট্ট অভিভাবকও। সম্প্রতি, ইউভান তার মাকে জানিয়েছিল, “তুমি ওর মা নও, আমি ওর মা।” এই ধরনের ভালোবাসা এবং দায়িত্বের ধারণা শৈশব থেকেই সন্তানদের মধ্যে স্থাপন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং শুভশ্রী এই দিকটি খুবই গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page