খুব অল্প বয়সেই বাংলা বিনোদন জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন অহনা দত্ত। নাচের মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজর কেড়েছেন তিনি। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর প্রতিযোগী হিসেবে দর্শকদের সামনে প্রথম পরিচিতি পান অহনা। পরে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে মিশকা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকে। অভিনয়ের পাশাপাশি সংসার এবং মাতৃত্বের দায়িত্বও সমানভাবে সামলাচ্ছেন অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর জন্মদিন, আর সেই বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন সহকর্মীরা।
জন্মদিন উপলক্ষে অভিনেত্রী অস্মিতা চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে অহনার সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি ভাগ করে নেন। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, “হ্যাপি বার্থ ডে মিষ্টি মেয়ে, বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু আমার থেকে অত ছোটো একটা মেয়ে কিন্তু কী কনফিডেন্ট! যার মনের জোরের কথা আমি রিমোর কাছে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন কাজ করতে করতে দেখতে পাই। যার মনে যেটা থাকে সেটা মুখে প্রকাশ হয়। খুব কেয়ারিং একটা মা, আর সব শেষে যেটা না বলে নয় সেটা হল একজন ভালো অভিনেত্রী। এরকমই থাক। আর তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যা। জন্মদিন খুব ভালো কাটুক।” অস্মিতার এই বার্তা মুহূর্তের মধ্যেই অনুরাগীদের নজর কাড়ে। অনেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন।
শুধু অস্মিতাই নন, অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্তও জন্মদিনে অহনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “হ্যাপি বার্থ ডে বিউটিফুল।” সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া এই শুভেচ্ছাবার্তা অহনার বিশেষ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। বর্তমানে ধারাবাহিকের ব্যস্ত শুটিংয়ের মাঝেও নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন সুন্দরভাবে সামলে চলছেন তিনি। অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা নিয়েও সহকর্মীদের মধ্যে প্রশংসা রয়েছে। তাই জন্মদিনে তাঁর প্রতি শুভেচ্ছার বন্যা দেখা যায় সমাজমাধ্যমে।
মেয়ে মীরার জন্মের মাত্র চার মাস পরেই কাজে ফিরে আসেন অহনা। শুটিংয়ের সময় মেয়েকে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন তাঁর শ্বশুরমশাই এবং পরিচারিকারা। তবে কাজের ফাঁকে যতটা সম্ভব সময় মেয়ের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতি পেলেই তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরে যান। তাঁর স্বামী দীপঙ্কর রায়ও ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ এবং পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট। মেয়ের জন্মের আগেই পরিবারের এক বড় শোকের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। শাশুড়ির স্মৃতিকে ধরে রাখতেই কন্যাসন্তানের নাম রাখা হয়েছে মীরা। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের আবেগও।
আরও পড়ুনঃ ছদ্মবেশে সাগরের বাড়িতে হাজির আদিত্য! কিন্তু সানির কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে উল্টে বাড়ল বিপদ! এবার কি সামনে আসবে এমন কোনও সত্য, যা বদলে দেবে পুরো খেলা? ‘কমলা নিবাস’-এ আজকে ফাটাফাটি পর্ব! মিস করবেন না
অহনার ব্যক্তিগত জীবনও বহুবার আলোচনায় এসেছে। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এ অংশগ্রহণের সময় মা চাঁদনীর সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তবে দীপঙ্কর রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। বয়সের পার্থক্য, দীপঙ্করের বিবাহবিচ্ছেদ এবং তাঁর পেশাকে কেন্দ্র করে আপত্তি ছিল অহনার মায়ের। সেই কারণেই মা-মেয়ের সম্পর্কে ফাটল ধরে। পরে অহনা ও দীপঙ্কর একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাই তাঁদের পাশে রয়েছেন। তবে মা ও মেয়ের সেই অভিমান এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি অহনার মা এখনও নাতনি মীরার মুখও দেখেননি বলে জানা গেছে।
