জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“লুডো বিলি করে মানুষকে বলা হয়েছিল ভবিষ্যৎ ঠিক করতে, সাপের মুখে ফেলে দিয়েছে! দলের ঠিক ভুল নিয়ে মুখ খোলাই যেত না!” নির্বাচনের পর তৃণমূলের কর্পোরেট ব্যবসা নিয়ে বি’স্ফো’রক অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বিধানসভা নির্বাচনের আগে টানা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করলেও এবারের ফলাফল তিনি প্রত্যাশা করেননি বলে জানালেন অভিনেত্রী ও পুরপ্রতিনিধি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রচারের সময় মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। অনন্যার কথায়, “বিধানসভা নির্বাচনের এমন ফলাফল প্রত্যাশা করেননি। তবে প্রচারে গিয়ে আন্দাজ করেছিলেন, ক্রমশ মানুষ পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছেন।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে দলের ভিতরে কিছু সমস্যা ছিল, যা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব হয়নি। ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এর নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করেছে এবং একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

ফলাফল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অনন্যা বলেন, জনগণের রায়ই শেষ কথা। তাঁর কথায়, “মানুষ এই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। জনাদেশ অস্বীকার করার জায়গা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, ইভিএম কারচুপির মতো অভিযোগ শোনা গেলেও তার সত্যতা তিনি জানেন না। তাঁর মন্তব্য, “অনেকেই ইভিএম কারচুপির কথা বলছেন ঠিকই। কিন্তু আমি তো জানি না। সবই প্রমাণসাপেক্ষ। কিন্তু মানুষ রায় দিয়েছে, তাই এই পরিবর্তন।” তিনি আরও জানান, ফল ঘোষণার পর দলের ভেতরের নানা সমস্যা নিয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন, এমনকি কেউ কেউ রাজনীতি ছাড়ার কথাও বলছেন।

দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সব সময় সমস্যাগুলো প্রকাশ করার সুযোগ ছিল না। তাঁর কথায়, “ফল প্রকাশের পরে নানা মানুষ দলের অন্দরের সমস্যার কথা বলছেন। কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলছেন।” তিনি মনে করেন, বাইরে থেকে দেখে অনেকেই ভাবছেন এটি শুধুই রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইচ্ছা, কিন্তু বাস্তব তা নয়। অনন্যার বক্তব্য, “এতটা সরলীকরণ করে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, দলের অন্দরের সমস্যা বলার মতো জায়গাই ছিল না।” তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে কিছু সমস্যা অনুভব করলেও তা প্রকাশ করেননি বলে জানান।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনন্যা বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি পুরসভার কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার কোনও পদোন্নতি হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি ২০১৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছি।” তিনি জানান, কাজ করে গেলেও তার কোনও মূল্যায়ন হয়নি এবং এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্ষোভ জমে ছিল। তিনি আরও বলেন, “দল নিয়ে কেউ কেউ গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। এমন নয়, তাঁরা দল থেকে বেরিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইছেন।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই বিষয়গুলো দল ক্ষমতায় থাকার সময় বলা হয়নি, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

দলের সংগঠন ও কাজের ধরণ নিয়েও সমালোচনা করেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, একসময় দল মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকলেও এখন সেই সংযোগ কমে গেছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল তো ‘মা, মাটি, মানুষের’ দল। মাটিতে পা রেখে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার কথা।” কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এখন দল অনেকটাই কর্পোরেট ধাঁচে চলে গেছে এবং এজেন্সি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, প্রচারের সময় লুডো বোর্ড বিলি করা নিয়েও তাঁর প্রশ্ন ছিল। তাঁর কথায়, “আইপ্যাক সবাইকে লুডো দিচ্ছিল। কেন দিচ্ছিল? মানুষকে পরোক্ষভাবে বলা হল, তোমাদের ভবিষ্যতে আর কিছু হবে না, তোমরা লুডো খেলো।” ভবিষ্যতে রাজনীতিতে থাকবেন কি না, তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page