জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সর্বভারতীয় স্বীকৃতি না পেলে বাঙালিরা নিজের প্রতিভার মূল্য দেয় না, বলিউড না ডাকলে বাংলায় হয়তো এই সম্মান পেতাম না” অকপট টোটা রায়চৌধুরী! বাঙালি পরিচালকদের কাস্টিং মানসিকতা নিয়ে সবর অভিনেতা!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ টোটা রায়চৌধুরী আবারও নিজের বক্তব্যে সরব হলেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ও বাঙালিদের আত্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গে। নব্বইয়ের দশকে টলিউডে পথচলা শুরু করা এই অভিনেতা আজ বাংলা ও হিন্দি দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমানভাবে পরিচিত। ‘দূরন্ত প্রেম’ দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’ ছবিতে অভিনয়ের পরই তিনি আলাদা পরিচিতি পান দর্শকদের কাছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে অ্যাকশন, রোম্যান্স থেকে শুরু করে গোয়েন্দা চরিত্র সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ফেলুদা চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি করেছে।

টলিউডে বহু বছর কাজ করলেও বলিউডেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে দিয়েছেন টোটা। ‘কাহানি ২’, ‘হেলিকপ্টার ইলা’ থেকে শুরু করে একাধিক হিন্দি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে করণ জোহরের পরিচালিত ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ (Rocky Aur Rani Kii Prem Kahaani) ছবিতে তাঁর অভিনয়। সেই ছবিতে আলিয়া ভাটের বাবার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে কত্থক নৃত্যও শিখেছিলেন অভিনেতা। ছবিটি মুক্তির পর সারা দেশজুড়ে তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা হয়। অনেকেই বলেন, বলিউডে গিয়ে টোটা যেন নিজের প্রতিভার নতুন পরিচয় তৈরি করলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টোটা রায়চৌধুরী বলেন, তিনি সবসময় নিজের বাঙালি পরিচয় নিয়ে গর্ব অনুভব করেন। তাঁর কথায়, বাঙালিরা দেশের অন্যতম প্রতিভাবান মানুষ হলেও অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের প্রতিভার উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। অভিনেতা জানান, ‘রকি অউর রানী কি প্রেম কাহানি’র জন্য তিনি মাত্র চার মিনিটের একটি অডিশন ক্লিপ পাঠিয়েছিলেন। সেই ভিডিও তাঁর স্ত্রী মোবাইলে রেকর্ড করে দিয়েছিলেন। আর সেই চার মিনিটের ক্লিপ দেখেই মাত্র ২৬ মিনিটের মধ্যে কাস্টিং ডিরেক্টর শানু শর্মা তাঁকে ভিডিও কল করে নির্বাচিত হওয়ার খবর দেন।

টোটা জানান, করণ জোহরের মতো একজন পরিচালক এত অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝে গিয়েছিলেন যে তিনি এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত। অথচ বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছর কাজ করার পরও সেইভাবে তাঁর সম্ভাবনাকে অনেকেই চিনতে পারেননি বলেই আক্ষেপ অভিনেতার। তাঁর কথায়, “যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমি এত বছর ধরে কাজ করলাম, এত কাজ করলাম, তারা বুঝতে পারল না আমার মধ্যে এই সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বাইরের একজন পরিচালক চার মিনিটের ভিডিও দেখেই সেটা বুঝে গেলেন।” ছবিটি মুক্তির পর যখন অনেকে এসে তাঁকে বলেছিলেন “জানতাম তুই পারবি”, তখন অভিনেতার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, যদি সত্যিই বিশ্বাস থাকত, তাহলে সেই বিশ্বাস কাস্টিংয়ের সময় দেখা গেল না কেন?

এখানেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এবং বাঙালিদের মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন টোটা রায়চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, যতক্ষণ না কোনও বাঙালি সর্বভারতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাচ্ছেন, ততক্ষণ আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর ভরসা করতে শিখছি না। অভিনেতার মতে, কেন একজন বাইরের মানুষ এসে বলবেন “এই বাঙালিটা পারে”? কেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিজের প্রতিভাকে আগে চিনতে পারবে না? টোটার এই বক্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু টোটা নন, বহু প্রতিভাবান শিল্পীকেই হয়তো নিজের রাজ্যের বাইরে গিয়ে আলাদা স্বীকৃতি পেতে হয়েছে। আর সেই কারণেই অভিনেতার প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে বাঙালিরা কি সত্যিই নিজেদের প্রতিভার উপর যথেষ্ট বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে?

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page