জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি জানে, তাই নিজেদের আলাদা স্পেস চায়”, অকপট অপরাজিতা আঢ্য! বেশি তথ্য আর স্বাধীন চিন্তাভাবনার কারণেই কি আজ বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের মানসিক দূরত্ব বাড়ছে? অভিনেত্রীর মন্তব্যে বর্তমান সমাজের কোন কঠিন বাস্তব উঠে এলো?

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে তিনি নিজের সাবলীল অভিনয়, সহজাত ব্যক্তিত্ব এবং বাস্তবধর্মী চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। থিয়েটার দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও পরে ছোট পর্দা এবং বড় পর্দা দুই জায়গাতেই সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ‘গানের ওপারে’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’-এর মতো ধারাবাহিক হোক কিংবা ‘প্রাক্তন’, ‘বেলাশেষে’, ‘হামি’, ‘চিনি’-র মতো সিনেমা সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পীও। এছাড়া শিল্পী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলাচ্ছেন বহুদিন ধরে।

শুধু অভিনয় নয়, সমাজের নানা বিষয় নিয়েও মাঝেমধ্যেই নিজের মতামত প্রকাশ করেন অপরাজিতা আঢ্য। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁকে দেখা যায় খুব সহজ ও বাস্তব ভাষায় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মানসিকতা, তাদের স্বাধীনতা এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে ছিল একদিকে অভিজ্ঞতার ছাপ, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে বোঝার আন্তরিক চেষ্টা। তিনি জানান, ছোটবেলায় প্রায় সবাই মনে করে বাবা-মাকে সহজেই বোকা বানানো যায়। সেই বয়সের এক ধরনের মানসিকতা থাকে, যা তিনিও নিজের জীবনে অনুভব করেছেন।

অপরাজিতা বলেন, সময় বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এখন অনেক বেশি তথ্য জানে এবং অনেক বেশি সচেতন। তাঁর মতে, আজকের ছেলেমেয়েরা এমন অনেক বিষয় জানে, যা আগের প্রজন্ম হয়তো জানতই না। সেই কারণেই তাদের চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন এবং জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। অভিনেত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, শুধু বুদ্ধি থাকলেই হয় না, কোনও বিষয় সম্পর্কে জানা না থাকলে সেখানে বিচার করার ক্ষমতাও তৈরি হয় না। খুব সহজ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনও জিনিসের অভিজ্ঞতাই না পায়, তাহলে সেটি নিয়ে সঠিকভাবে ভাবা বা বিচার করা সম্ভব নয়। এই কথার মাধ্যমে তিনি মূলত প্রজন্মের বদলে যাওয়া বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছেন।

এছাড়াও তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের জন্য আলাদা একটি ব্যক্তিগত জায়গা বা ‘স্পেস’ চায়। তারা চায় না, সেই ব্যক্তিগত পরিসরে সবসময় অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করুক। অপরাজিতার মতে, এই চাওয়াটা ভুল নয়। কারণ এখনকার ছেলেমেয়েরা নিজেদের মত করে ভাবতে শেখে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে চায় এবং নিজেদের অনুভূতিগুলোও স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা পরিবারকে ভালোবাসে না। বরং সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলেছে। সেই পরিবর্তনকে বুঝতে পারাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য অনেক সাধারণ মানুষের কাছেও বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়েছে। কারণ বর্তমান সময়ে বাবা-মা এবং সন্তানের মধ্যে মানসিক দূরত্ব বা মতের অমিল নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। অপরাজিতা আঢ্য সেই বিষয়টিকেই খুব সহজভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, নতুন প্রজন্মকে শুধু সমালোচনা না করে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাও বোঝার চেষ্টা করা দরকার। সমাজ বদলাচ্ছে, মানুষের চিন্তাভাবনাও বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পর্কের মধ্যেও পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মান বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page