অরিজিৎ সিং মানেই আজ বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা, আবেগে ভরা কণ্ঠ আর একের পর এক সুপারহিট গান। তাঁর গানে মুগ্ধ গোটা পৃথিবী। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর নাম উজ্জ্বল হয়েছে, যখন জনপ্রিয় গায়ক এড শিরান নিজে এসে অরিজিতের জিয়াগঞ্জের বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন। তাঁদের যৌথ গান ‘Sapphire’ ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মন জয় করেছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথে পৌঁছনোর যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। ছোট্ট শহর থেকে উঠে এসে অরিজিতের স্বপ্নের শুরু হয়েছিল টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ফেম গুরুকূল দিয়ে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮, চোখে অজস্র স্বপ্ন আর মনে অনিশ্চয়তার ভিড়।
২০০৫ সালে সোনি টিভিতে সম্প্রচারিত এই শো ছিল একেবারে ব্যতিক্রমী। এখানে প্রতিযোগীদের একই ছাদের নিচে থেকে সারাক্ষণ ক্যামেরার সামনে থাকতে হত। গান শেখা, রিহার্সাল, পারফরম্যান্স সবই চলত দর্শকের চোখের সামনে। দেশের নামী সংগীতগুরুরা সেখানে প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই পরিবেশেই নিজের সীমাবদ্ধতা ভাঙতে শিখছিলেন তরুণ অরিজিৎ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই শোর একটি পুরোনো ভিডিও, যেখানে দেখা যায় কিংবদন্তি গায়িকা ইলা অরুণের সামনে বসে চোখের জল ফেলছেন অরিজিৎ। দৃশ্যটি আজও দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইলা অরুণ তাঁকে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে কঠোরভাবে তিরস্কার করছেন। তিনি জানান, অরিজিৎ তাঁর প্রিয় ছাত্রদের তালিকা থেকে জায়গা হারিয়েছে। বারবার ক্ষমা চাইতে দেখা যায় তরুণ শিল্পীকে, চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ইলা চলে যাওয়ার পরেও কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অরিজিৎ। সেই মুহূর্তে হয়তো ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, কিন্তু এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও শক্ত করে তুলেছিল। কঠিন সমালোচনা আর ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই যে একজন শিল্পী নিজেকে গড়ে তোলে, সেই বাস্তব শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি খুব অল্প বয়সেই।
এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ জানিয়েছিলেন, ফেম গুরুকূলে অংশ নেওয়ার মূল কারণ ছিল নিজের অবস্থান যাচাই করা। প্রতিযোগিতায় নামলে তবেই নিজের ক্ষমতা বোঝা যায়, এমনটাই বিশ্বাস তাঁর। শোয়ের অন্যতম জুরি শঙ্কর মহাদেবনের উপস্থিতিও তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। অরিজিতের কথায়, শো শেষ হওয়ার পরেও শঙ্করজির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং কঠিন সময়ে তিনি সাহায্যও পেয়েছেন। এই সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতাগুলি তাঁর সংগীত জীবনের ভিত আরও মজবুত করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “আমি বুঝতে পারি কে আমার ভালো চায় না, তবুও দু’হাত বাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরি” বাংলায় নিজের ‘শ’ত্রু’ নিয়ে অকপট প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়! কার দিকে এই পরোক্ষ খোঁচা টলিউডের জ্যেষ্ঠপুত্রের?
যদিও ফেম গুরুকূলের বিজয়ীর মুকুট অরিজিতের মাথায় ওঠেনি, তবু তাঁর যাত্রা থেমে যায়নি। মুম্বইতে গিয়ে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে প্রতিটি সুযোগের জন্য। স্টুডিয়োতে স্ক্র্যাচ গান গাওয়া, রাত জেগে রেওয়াজ করা, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা ছিল তাঁর দৈনন্দিন বাস্তবতা। আজ সেই পরিশ্রমই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। খ্যাতি, সম্মান আর ভালোবাসায় ভরে উঠেছে তাঁর জীবন, আর একদিনের চোখের জল আজ পরিণত হয়েছে লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণায়।
