বিনোদন জগৎ মানেই শুধু আলো-ঝলমলে রূপকথা নয়। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার লড়াই এবং দর্শকের রুচি বোঝার নিরন্তর চেষ্টা। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে সিনেমা দেখার অভ্যাস, প্রযুক্তি, গল্প বলার ভাষা। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব—এ কথা আজ আর অস্বীকার করার জায়গা নেই।
এই পরিবর্তনের সাক্ষী এবং অংশীদার বাংলা সিনেমার অন্যতম স্তম্ভ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন, বদলেছেন চরিত্রের খোলস। রোমান্টিক নায়ক থেকে শুরু করে বাস্তবধর্মী, চ্যালেঞ্জিং চরিত্র—প্রতিটি পর্যায়েই দর্শকের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নতুনভাবে তৈরি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি ইন্টারভিউতে অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, একজন অভিনেতা হতে গেলে শুধুমাত্র অভিনয় জানলেই চলবে না। সিনেমা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, প্রযুক্তি কীভাবে বদলাচ্ছে—এই বিষয়গুলো না বুঝলে আজকের দিনে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি স্মরণ করেছেন সেই সময়ের কথা, যখন বাংলা সিনেমা জগতের অনেকেই তাঁকে ‘হীরের টুকরো’ বলে ডাকতেন। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে দর্শকও।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, আজকের প্রজন্ম আর ৩০ বছর আগের প্রজন্ম এক নয়। তাই বর্তমান সময়ে সিনেমা করতে গেলে এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ রাখতে হলে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মিশতেই হবে। তাদের সঙ্গে না মিশতে পারলে তারা কী চায়, কীভাবে ভাবছে—তা বোঝা কখনও সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত।
আরও পড়ুনঃ “উ’স্কানিদাতা জিতু!” দিতিপ্রিয়ার থেকে অভ্রজিত, সব ঝামেলার কেন্দ্রে বারবার একটাই নাম! এই কারণেই নাকি তাঁকে পছন্দ করেন না প্রযোজনা সংস্থার লোকেরা? ফের উত্তাল সমাজ মাধ্যম, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ঘিরে নতুন বিতর্ক?
নিজের অভিনীত জনপ্রিয় চরিত্র কাকাবাবুর সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান বলেও জানিয়েছেন অভিনেতা। কাকাবাবুর মতোই তিনি শত্রুকেও আপন করে নিতে জানেন। তাঁর কথায়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রি খুব ছোট—এখানে ভালো-খারাপ সব মিলিয়েই পথ চলতে হয়। এক সময় নেগেটিভিটি তাঁকে কাঁদিয়েছে, কিন্তু ধীরে ধীরে সেসবের সঙ্গেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তিনি—এটাই তাঁর দীর্ঘ পথচলার শিক্ষা।
