জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘ক্লাইম্যাক্সই শ্যুট হয়নি, তবু পৌঁছে গিয়েছে সেন্সর বোর্ডে’ টলিউডের অন্দরমহলের অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়! সময়ের অভাব আর পরিকল্পনার গাফিলতিতেই কি অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে বাংলা সিনেমা? দর্শকদের প্রত্যাশার কথা কি আর মাথায় রাখছেন না বর্তমান নির্মাতারা?

বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন তিনি। ‘জলতরঙ্গ’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হলেও পরে ‘ইষ্টি কুটুম’, ‘মা’, ‘কুসুম দোলা’, ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ কিংবা ‘মোহর’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে ‘আলো’, ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’ বা ‘যেখানে ভূতের ভয়’-এর মতো ছবিতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

তবে শুধু অভিনয়ের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন না ভাস্বর। ইন্ডাস্ট্রির নানা অভিজ্ঞতা, টলিপাড়ার অন্দরমহলের ঘটনা কিংবা অভিনয় জগতের বাস্তব দিক নিয়ে মাঝেমধ্যেই সমাজমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর লেখার ভঙ্গিতেও থাকে রসবোধ, ব্যঙ্গ এবং বাস্তবতার মিশেল। কখনও মজার ছলে, আবার কখনও গভীর ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, যা সাধারণ দর্শকদের কাছে অজানা। সম্প্রতি তেমনই একটি পুরনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যা নিয়ে নেটমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ভাস্বর জানান, একসময় তিনি সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলেন। সেই সময় বহু বাংলা ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেই অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যেমন ভাল স্মৃতি রয়েছে, তেমনই রয়েছে অবাক করা কিছু ঘটনাও। অভিনেতার কথায়, একবার একটি বাংলা ছবি দেখতে বসেছিলেন তিনি। ছবিতে পরিচিত শিল্পীরা ছিলেন, পারিবারিক গল্পও ছিল। কিন্তু গল্পের গঠন বা পরিচালনা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার ছিল না। সবকিছু চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু হঠাৎ করেই ছবিটি শেষ হয়ে যায়। না কোনও ঠিকঠাক ক্লাইম্যাক্স, না গল্পের সঠিক পরিণতি একেবারে অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই ছবির ইতি ঘটে।

এই ঘটনায় অবাক হয়ে পরিচালককে প্রশ্ন করেছিলেন ভাস্বর। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ছবির শেষটা এমন অসম্পূর্ণ কেন মনে হল? তখনই পরিচালক নাকি অত্যন্ত অসহায় মুখে উত্তর দেন, ছবির ক্লাইম্যাক্স শ্যুট করাই সম্ভব হয়নি। কারণ, শিল্পীদের কেউই আর শ্যুটিংয়ের জন্য সময় বা ডেট দেননি। ফলে ছবির শেষ অংশ আর তৈরি করা যায়নি। পরিচালকের সেই অসহায় উত্তর শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা। আরও অবাক করার বিষয়, কয়েক মাস পর টালিগঞ্জে সেই একই ছবির পোস্টারও দেখতে পান তিনি। অর্থাৎ অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল।

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের এই পোস্ট শুধুমাত্র একটি অভিজ্ঞতার গল্প নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে তিনি টলিউডের এক কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনতে চেয়েছেন। তাঁর কথার মধ্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, অনেক সময় ইন্ডাস্ট্রিতে পরিকল্পনার অভাব, শিল্পীদের সময় না মেলা কিংবা প্রযোজনার সমস্যার কারণে একটি ছবির সৃজনশীল দিক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দর্শক যখন সিনেমা হলে একটি ছবি দেখতে যান, তখন তাঁরা সম্পূর্ণ একটি গল্প আশা করেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে কত সমস্যার মধ্যে দিয়ে একটি ছবি তৈরি হয়, সেই বাস্তব ছবি সাধারণ মানুষ জানেন না। ভাস্বর সেই অজানা দিকটিকেই সহজ, রসিক অথচ অর্থবহ ভাষায় তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পোস্টে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ভিতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page