বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত আর নেই। শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অটোইমিউন ডিজিজে ভুগছিলেন এবং গত এক বছরের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। বিপ্লবের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলা শোবিজে। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আড্ডা নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়।
বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাসবদত্তা তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে তিনি বলেন, “কত স্মৃতি, কত আড্ডা একটু একটু করে ফ্ল্যাশব্যাকে আসছে।” তিনি জানালেন, বিপ্লবের সঙ্গে তাদের আড্ডা ছিল একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত, যেখানে অংশ নিতেন বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বিদেশী সাহিত্যচর্চা থেকে শুরু করে রিচার্ড বাটন, মার্লোন ব্রান্ডো, উত্তম কুমার, মান্না দে – সবাই তাদের আড্ডায় আসতেন। এই আড্ডাগুলো, যা ছিল সময়ের বাইরে, বাসবদত্তার জীবনে এক বিশেষ জায়গা নিয়ে রয়েছে।
বিপ্লব দাশগুপ্ত শুধু একজন বাচিকশিল্পী ছিলেন না, বরং তিনি একাধারে শিক্ষক, ভয়েস-ওভার শিল্পী, এবং বিজ্ঞাপন জগতেরও পরিচিত নাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করার পর তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। তার পর তিনি বাচিকশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন, যা তাকে মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রতিভা শুধু টেলিভিশন কিংবা সিনেমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি বিজ্ঞাপনেও অবদান রেখেছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়েস-ওভার করতেন।
২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় পা রাখেন বিপ্লব। এরপর ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’, ‘ফেলুদা’-সহ একাধিক ছবি ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে তার অভিনয় দর্শকদের মনে দীর্ঘদিনের জন্য স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে তার অভিনয়, যেখানে তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে কাজ করেন, আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আজকের অরিজিৎ সিংকে সবাই ভালোবাসে, কিন্তু এক সময়ে তাঁর গান কেউ শুনতে চাইতো না! তুমুল জনপ্রিয়তার পেছনে ছিল প্রচণ্ড কষ্ট! জন্মদিনে প্রকাশ পেল, গায়কের জীবন সংগ্রামের সেই অজানা অধ্যায়!
বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে তার অসংখ্য অনুরাগী শোকাহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার অনুরাগীরা একে অপরকে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার জীবন ও কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। বাসবদত্তা নিজেও বলেন, “আরও কত আড্ডা বাকি রয়ে গেল। খুব মিস করবো বি ডি জি।” তাঁর এই শোকপূর্ন পোস্টে বহু অনুরাগী মন্তব্য করে বিপ্লবের রসবোধ, তাঁর কর্মদক্ষতা এবং সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন। বিপ্লবের প্রয়াণ বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে এক বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
