জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমি যখন হসপিটালে, তোমার মনে হয়েছিল, মায়ের কী কষ্ট হচ্ছিল?” “সোনার বা লোহার, শিকল দাসত্বের!” “তুমি কথা দাও, ম’দ খেয়ে…” রাহুলের মৃ’ত্যুকে ঘিরে ফের চরমে জিতু ও অভ্রজিতের ঠান্ডা ল’ড়াই!

টলিউডে সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর একে একে সরব হয়েছেন তার সহকর্মীরা। অভিনেতার মৃত্যু সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে তার ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে। শনিবার কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় এবং ওড়িশার তালসারিতে গিয়ে তার সহকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন এবং প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের বিরুদ্ধে থানায় ডায়েরি করেন। তাদের অভিযোগ, রাহুলের মৃত্যুর পর এই প্রযোজনা সংস্থা তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে। মৃত্যুর কারণ ও মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে, যা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা এবং অন্যান্য টলিউড অভিনেতারা। তবে অন্যদিকে, অভিনেতা জিতু কমল তার প্রতিবাদ অন্যভাবে প্রকাশ করেছেন। শনিবার তিনি একটি পথসভায় না গিয়ে, নিজের ছবিতে মালা পরিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে সরব হন। তার প্রতিবাদের মধ্যে প্রয়াত রাহুলের ছবি, প্রদীপ ও কিছু কাগজ ছিল। তিনি নিজে বলেন, ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থা নিয়ে তার মনে ক্ষোভ রয়েছে এবং সঠিকভাবে বিচার না পেলে তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে যাওয়ারও হুমকি দেন। তবে তার এই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন তার সহকর্মী কিঙ্কর বা অভ্রজিৎ। তিনি লিখেছেন, “এটা তোমার প্রতিবাদ করার সময় নয়, একটু শান্ত হয়ে থাকো।”

জিতু কমল তার প্রতিবাদে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত ১৬ মার্চ তিনি একটি শুটিংয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপরেও, তাকে শুটিং শেষ করতে বলা হয়েছিল, যদিও চিকিৎসক তাকে বারণ করেছিলেন। জিতুর অভিযোগ, প্রযোজনা সংস্থা এই চিকিৎসকের নির্দেশ মানেনি এবং তাকে শুটিং চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে, তাকে গালিগালাজও করা হয়। জিতু বলেন, তার সহকর্মীরা এই বিষয়ে সাহায্য করেননি, এবং তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার জন্যও প্রস্তুত।

অভ্রজিৎ যখন তার পোস্টে মন্তব্য করেন, তখন জিতু এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভ্রজিতকে প্রশ্ন করেন, “তুমি যখন মদ খেয়ে শুটিংয়ে আসো, তখন কি স্থান-কাল-পাত্র বুঝে আসো?” জিতু আরও বলেন, “আমি যখন হাসপাতালে ছিলাম, তখন কি তোমার মনে হয়েছিল আমার মায়ের কী কষ্ট হচ্ছিল?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালীন সময় প্রযোজনা সংস্থা তার শারীরিক অবস্থা উপেক্ষা করে তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল, যার কারণে তার শ্বাসনালীতে সমস্যা হয়েছিল।

এদিকে, জিতু তার পোস্টে আরও বলেন, “শিকল সোনার হোক বা লোহার, দুটোই দাসত্বের!” তিনি ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থা নিয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাহুলের মতো আরও অনেকেই যদি সুবিচার না পান, তবে তাদের পক্ষ থেকে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে জানান। তার এই কঠোর মন্তব্য টলিউডের মধ্যে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই ইন্ডাস্ট্রির শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page