সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশে ‘প্রিন্স’ ছবির বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের সময় শাকিব খান টলিউড অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর (Jyotirmoyee Kundu) কোমরে অস্বস্তিকরভাবে হাত রাখেন। এ ঘটনায় কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করে তিনি শাকিবের হাত নিজের কোমর থেকে সরিয়ে দেন। একই ঘটনা ঘটে বাংলাদেশী অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিনের ক্ষেত্রেও, যেখানে শাকিব খান তার কাঁধে হাত রাখেন, এবং বারবার সেটা সরাতে চেষ্টা করেন তাসনিয়া।
এসব ঘটনা নিয়ে তখনই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। তবে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এরপরেই একটি সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্ময়ী এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এই ঘটনা খুব ভুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওই দিন প্রচণ্ড ভিড় ছিল, জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন ছিল। মিডিয়া থেকেই বলা হয়, শাকিব খানের সঙ্গে ছবি তুলতে। সেসময় শাকিব আমাদের গার্ড করেছিলেন।” তার মতে, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর, কিন্তু শাকিবের আচরণে কোন খারাপ ইচ্ছা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, “এটা যদি ইচ্ছাকৃত কিছু হতো, তাহলে কি তিনশো ক্যামেরার সামনে এমনটা করা হত?” ভিডিও দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, শাকিবের আচরণে নায়িকাদের অস্বস্তি হয়েছিল। তবে জ্যোতির্ময়ী তাতে একেবারেই একমত নন। তিনি বলেন, “অস্বস্তি বা খারাপ কিছু ছিল না। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ানোই কঠিন ছিল। একজন আরেকজনকে সাহায্য করা স্বাভাবিক বিষয়।
আমি যদি এমন কিছু দেখে থাকতাম, তাহলে সেটা আমি সহ্য করতাম না।” তার মতে, যে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, তা আসলে কোন সমস্যা ছিল না। জ্যোতির্ময়ী আরও বলেন, “এটা যদি সুস্থ মানুষেরা দেখতেন, তারা বুঝতেন যে, কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। মিডিয়ার সামনে সঠিকভাবে বিষয়টা তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।” তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেন যে, “কেউ যদি এমন কিছু করতো, তা আমি ক্যামেরার সামনে নিশ্চয়ই সহ্য করতাম না।”
তার বক্তব্যে পরিষ্কার যে, এই বিষয়টি একেবারেই ভুলভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং এভাবে ছড়ানো একেবারেই অনুচিত। শেষে, তিনি সবার কাছে অনুরোধ করেন, “এই ধরনের মশলাদার গল্প ছড়ানো বন্ধ করুন। এতে কিছুই লাভ নেই। সবাই নিজেদের মতো জীবন যাপন করুক, আর এসব অযাচিত বিতর্ক থেকে সবাই দূরে থাকুক।” তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজের অনেক সময় অতিরঞ্জিত করে বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, যার ফল ভোগ করতে হয় অন্যান্যদের।
