টেলিভিশনের অ্যাওয়ার্ড শো মানেই দর্শকদের আলাদা উন্মাদনা। সারা বছর প্রিয় সিরিয়াল, প্রিয় চরিত্র আর প্রিয় তারকাদের নিয়ে যাঁরা বাঁচেন, তাঁরা অপেক্ষা করে থাকেন সেই বিশেষ সন্ধ্যার জন্য—কোন বিভাগে কে জিতলেন, কার হাতে উঠল সেরার ট্রফি। তবে দর্শকদের থেকেও অনেক সময় বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই। কারণ এই মঞ্চই তাঁদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি, জনপ্রিয়তার প্রমাণ এবং শিল্পীসত্তার সম্মান।
বাংলা টেলিভিশনের দুই প্রধান চ্যানেল—স্টার জলসা ও জি বাংলা—প্রতি বছরই নিজেদের অ্যাওয়ার্ড শো নিয়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। দর্শকেরা যেমন মুখিয়ে থাকেন, তেমনই তারকাদের মধ্যেও দেখা যায় আলাদা উত্তেজনা। সাজপোশাক, রিহার্সাল, মনোনয়ন—সব মিলিয়ে এক উৎসবের আবহ। বিশেষ করে অ্যাওয়ার্ডের আমন্ত্রণপত্র পাওয়া শিল্পীদের কাছে একরকম সম্মানের বিষয় বলেই মনে করা হয়।
তবে এবারের অনুষ্ঠান ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরদিনই তুমি যে আমার-এর ‘শেফালী মাসি’ চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী পুবালি ভট্টাচার্যর কাছে অ্যাওয়ার্ড শোর ইনভিটেশন কার্ড পৌঁছেছে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার প্রায় ছ’দিন পরে। জানা গিয়েছে, ২২ তারিখেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, অথচ আমন্ত্রণপত্র হাতে এসেছে তার অনেক পরে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে শিল্পীমহলে শুরু হয়েছে চাপা গুঞ্জন।
অনেকেই অবশ্য বলছেন, হয়তো ডেলিভারি ব্যবস্থার গাফিলতি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—যদি সময়মতো কার্ড না পৌঁছায়, তাহলে সেটে সরাসরি দেওয়া যেত না? যাঁরা প্রতিদিন শুটিং ফ্লোরে উপস্থিত থাকেন, তাঁদের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেওয়া কি খুব কঠিন ছিল? তুলনায় অনেকে উদাহরণ টানছেন স্টার জলসার অ্যাওয়ার্ড শোর, যেখানে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই অধিকাংশ শিল্পীর হাতে পৌঁছে যায় নিমন্ত্রণপত্র।
আরও পড়ুনঃ রঙের খেলায় প্রেমের পরীক্ষা! দোলেই এবার ফাঁস হবে মনের কথা? ‘সত্য বচন সিদ্ধি’ খেয়ে পারুলের প্রতি প্রেম স্বীকার করবে রায়ান! ‘পরিণীতা’য় টানটান উত্তেজনা!
এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা টানা শুরু হয়েছে দুই চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। শিল্পীমহলের একাংশের দাবি, স্টার জলসা-র ক্ষেত্রে সাধারণত অনুষ্ঠান শুরুর আগেই আমন্ত্রণপত্র শিল্পীদের হাতে পৌঁছে যায় বা সেটেই তা তুলে দেওয়া হয়, ফলে এমন বিভ্রান্তির সুযোগ কম থাকে। সেই জায়গা থেকে দেখলে জি বাংলা-র এই দেরিতে ইনভিটেশন পৌঁছনো নিছক ত্রুটি, নাকি পরিকল্পনার ঘাটতি—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এক জনপ্রিয় চরিত্রের শিল্পীর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এখন দেখার, বিষয়টি নিয়ে চ্যানেলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা আসে কি না, নাকি এই বিতর্ক আরও জোরালো আকার নেয়।
