দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন দেবশ্রী রায়। শিশুশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু করে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে গত এক দশকে তাঁকে পর্দায় তুলনামূলক কম দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি সেই কারণ নিয়েই মুখ খুলে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন দেবশ্রী। রায়দিঘি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর টানা দু’দফা দায়িত্ব সামলান তিনি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরে দল থেকেও সরে দাঁড়ান। বর্তমানে ফিরে তাকিয়ে তিনি মনে করেন, একসঙ্গে রাজনীতি ও অভিনয় সামলানো সহজ নয়।
দেবশ্রীর কথায়, রাজনীতিতে বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার ফলে তাঁর অভিনয়জীবন ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছিল। তিনি উপলব্ধি করেছেন, যে কাজই করা হোক না কেন, তাকে গুরুত্ব দিয়ে সময় দেওয়া প্রয়োজন। তাই রাজনীতি করতে হলে সম্পূর্ণ মনোযোগ সেখানে রাখা উচিত, আবার অভিনয় করলে শিল্পীসত্তাকেই প্রাধান্য দিতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান।
বাংলা চলচ্চিত্র জগত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ অভিনেত্রী। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা অনেক বদলে গিয়েছে এবং উন্নতির জন্য প্রয়োজন সৎ ও দক্ষ মানুষের উদ্যোগ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেন এত শিল্পী একসময় রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছিলেন, তা তিনি আজও পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ নানা বিতর্ক থেকেও তিনি নিজেকে দূরে রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ পাক্কা খবর! দর্শকদের ইচ্ছেপূরণ করতে একসঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় ফিরছেন শ্বেতা ও রুবেল! বিয়ের পর প্রথমবার পর্দায় জুটি বাঁধছেন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি, আসছে নতুন ধারাবাহিক! হয়ে গেছে লুকসেটও, কবে থেকে হচ্ছে শুরু?
রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে দেবশ্রী জানান, নানা কারণে তিনি হতাশ ও বিরক্ত হয়ে দল ছেড়েছিলেন। তাঁর মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব না দিলে সমস্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছুটা আশাবাদী। নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে শিল্প ও বিনোদন জগতের উন্নতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
