বলিউড আর মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের সম্পর্ক এক সময়ের সেরা ‘মধুর-বিষাদ’ সম্পর্ক ছিল। অনেকেই জানেন যে, এই দুটি দুনিয়ার মধ্যে অদ্ভুত এক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি, পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা এক সাক্ষাৎকারে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা বলিউডের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে তোলপাড় ফেলেছে। নিজের আত্মজীবনী ‘গানস অ্যান্ড থাইস’ নিয়ে কথা বলার সময় ভার্মা জানান, তিনি এই বইটি একসময় দাউদ ইব্রাহিমকে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন। যদিও প্রকাশকের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি, কিন্তু তার বক্তব্য ছিল একেবারে স্পষ্ট।
তিনি দাবি করেন, “দাউদ ইব্রাহিম না থাকলে আমি ‘সত্যা’ বা ‘কোম্পানি’র মতো আইকনিক ছবি তৈরি করতে পারতাম না। আজও আমার জীবিকা দাউদের কারণেই চলছে, তাই তাকে বই উৎসর্গ করতে সমস্যা কী?” ভার্মার এই বক্তব্যে এক নতুন আলো ফেলেছে মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। তার মতে, তিনি কখনোই আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে কোনো হুমকি পাননি। বরং, ‘সত্যা’ এবং ‘কোম্পানি’ ছবির কারণে গ্যাংস্টাররা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এতটাই ভালো ছিল যে, তারা তাকে বিরক্ত করতে চায়নি। ভার্মা মনে করেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তার বন্ধুত্বই তাকে সৃজনশীলভাবে আরও সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বলিউডের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই সম্পর্ক শুধু রাম গোপাল ভার্মা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ডি. শিবানন্দমও সম্প্রতি দাবি করেছেন, ‘সত্যা’, ‘কোম্পানি’ এবং ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’-এর মতো ছবিগুলোর পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডেরই বিনিয়োগ ছিল।
তিনি জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে পুরনো ক্ল্যাসিক ছবিগুলোরও অনেক ক্ষেত্রে গ্যাংস্টারদের পরোক্ষ মদত ছিল। মূলত, গ্যাংস্টাররা তাদের ইমেজ ভালো করতে এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সিনেমায় টাকা ঢালতো। শিবানন্দম আরও বলেন, ওই সময়কার বলিউডের প্রযোজক ও পরিচালকরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রতি। গুলশন কুমারের হত্যা, যেটি সেই সময়কার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল, তা থেকেই বোঝা যায় যে, পুলিশের সামনে কোনো উপায় ছিল না।
আরও পড়ুনঃ শুটিং করতে গিয়ে আচমকা পু’ড়ে গেল গোটা পিঠ! দ’গ্ধ অবস্থাতেও কাজ বন্ধ করলেন না শিল্পা শেট্টি! অসম্ভব য’ন্ত্রণা নিয়ে পরদিন কীভাবে কাজ করলেন অভিনেত্রী?
পুলিশ এবং প্রশাসন উভয়ই সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অক্ষম ছিল। সে সময়কার গ্যাংস্টাররা শিল্পীদের কাছে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য নানা উপায়ে সহযোগিতা করত। রাম গোপাল ভার্মার বক্তব্য নতুন করে বলিউডের সেই পুরনো ক্ষতকে আবার উন্মোচিত করেছে। তার মতে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাহায্য ছাড়া সিনেমার এই সৃজনশীলতা সম্ভব ছিল না। তবে প্রশ্ন উঠছে, সৃজনশীলতা কি সত্যিই কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসবাদীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে সাহায্য করতে পারে?
