ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ফুলকি শেষ হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত সময় কাটছে অভিনেত্রী দিব্যাণী মণ্ডলের। একের পর এক কাজ তাঁর ঝুলিতে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র থেকে শুরু করে ঠাকুমার ঝুলিতে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের নাতনির চরিত্র সবেতেই নজর কেড়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন দিব্যাণী। কারণ তাঁর পোশাক। আইভরি হোয়াইট রঙের অফ শোল্ডার গাউন পরে মঞ্চে উপস্থিত হতেই শুরু হয় নেটদুনিয়ার চর্চা। পোশাক ঠিক করতে দেখা যাওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ঘিরে একের পর এক মন্তব্য চোখে পড়ে। কেউ লিখেছেন যে পোশাকে অস্বস্তি হচ্ছে সেটি পরার দরকার কী। আবার কারও মতে এমন ড্রেস পরার মানেই হলিউডের অন্ধ অনুকরণ। অনেকেই দাবি করেছেন দিব্যাণী নিজের স্বাভাবিক ইমেজ থেকে সরে যাচ্ছেন। ধারাবাহিক ফুলকিতে শাড়ি পরা সাদামাটা রূপে যাঁকে দেখেছেন দর্শকরা তাঁরা এই নতুন লুক সহজে মেনে নিতে পারছেন না বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই বিতর্ক প্রসঙ্গে দিব্যাণী স্পষ্ট ভাষায় নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁর কথায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের দর্শক আলাদা। ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুকের মানসিকতা এক নয়। ফুলকির চরিত্রে তাঁকে যেভাবে মানুষ দেখেছেন সেই অভ্যেসের কারণেই এই পোশাক অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লেগেছে। তবে তিনি নতুন ধরনের পোশাক এক্সপ্লোর করছেন এবং সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। অভিনেত্রীর মতে একজন শিল্পীর নিজেকে নতুন ভাবে তুলে ধরার অধিকার থাকা উচিত।
পোশাক ঠিক করার বিষয়টি নিয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দিব্যাণী। তিনি জানান ড্রেসাররা পোশাক একেবারে মাপমতোই বানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি ওজন কমে যাওয়ায় পোশাকটি কিছুটা ঢিলে হয়ে যায়। গাড়ি থেকে নামার সময় সামান্য ঠিক করছিলেন মাত্র। শাড়ি পরলেও তো আমরা এমনটা করি। কিন্তু ছোট্ট একটি ভিডিও দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন তিনি পোশাকে স্বচ্ছন্দ নন। আসলে সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটা না জেনেই মন্তব্য করা হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ শেষের পথে জি বাংলার এক সময়ের টপার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’? ধারাবাহিক ঘিরে চ্যানেল-প্রোডাকশনের তীব্র দ্বন্দ্ব? অন্দরমহলের টানাপোড়েন আর টিআরপি সংকটে, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ! আর্য-অপর্ণার গল্পের সমাপ্তি ঘটতে পারে কবে?
নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে খুব একটা প্রভাবিত করে না বলেই জানিয়েছেন দিব্যাণী। তাঁর কথায় তিনি ফ্যাশন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ভালবাসেন। নিজের কমফোর্ট জ়োন থেকে বেরনোটা জরুরি। যে পোশাক তাঁর ভাল লাগে এবং মানায় সেটাই তিনি পরতে চান। মানুষের পছন্দ অপছন্দ আলাদা হতেই পারে। তাই সব মন্তব্য গায়ে মাখেন না তিনি। খারাপের পাশাপাশি অনেক প্রশংসাও পেয়েছেন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সবাই একরকম ভাববে এমনটা আশা করাও ঠিক নয়। পরিবারের সঙ্গে নিজেরও পোশাকটি ভাল লেগেছে তাই তিনি সন্তুষ্ট।
