ছেলে ইউভানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে দুবাই পাড়ি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই বদলে গেল উদ্বেগে। শনিবার দুবাইয়ে পৌঁছনোর পর থেকেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর আসতে থাকে, বন্ধ হয়ে যায় কয়েকটি বিমানবন্দরও। এই পরিস্থিতিতেই দুবাইয়ে আটকে পড়েন শুভশ্রী ও তাঁর ছোট্ট ছেলে। কলকাতায় বসে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চক্রবর্তী ও গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের। বিশেষ করে নায়িকার বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও মন থেকে দুশ্চিন্তা সরাতে পারছেন না।
রবিবার তিনি জানান, শুভশ্রী যে হোটেলে প্রথমে উঠেছিলেন, তার কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। সোমবার আবার মেয়ের সঙ্গে প্রায় সাত মিনিট কথা হয়েছে তাঁর। নাতি ইউভানও ফোনে দাদুর সঙ্গে কথা বলে বড়দের মতো করেই আশ্বস্ত করেছে। ছোট্ট কণ্ঠে বলেছে, দাদু চিন্তা কোরো না, আমি ভাল আছি। কিন্তু এমন কথা শুনেও কি আর উদ্বেগ পুরো কাটে? দেবপ্রসাদবাবুর কথায়, নাতি আর মেয়েকে চোখের সামনে না দেখা পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হওয়া কঠিন। ফোনে শুভশ্রীও বাবাকে জানিয়েছেন, তাঁরা আপাতত হোটেলের ভিতরে নিরাপদেই রয়েছেন এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোচ্ছেন না।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেল বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, নতুন হোটেলেও সতর্কতা জারি রয়েছে। আশেপাশের এলাকাতেও মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে ৫ মার্চ দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটা থাকলেও তার আগেই ফেরার চেষ্টা করছেন শুভশ্রী। কিন্তু বিমান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় কবে ফেরা সম্ভব হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপরও, ফলে বহু মানুষই বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “করেছে তো একটা ‘বুড়ি’কে বিয়ে!” উদয়-অনামিকার পরে, এবার শ্বেতা-রুবেলের বয়স নিয়ে সমালোচনা! স্ত্রীকে নিয়ে অশা’লীন মন্তব্যে, পাল্টা তোপ রুবেলের! নীরব না থেকে সরাসরি কী জবাব দিলেন অভিনেতা?
প্রসঙ্গত, পরীক্ষা শেষ হয়ে এখন স্কুলে ছুটি ইউভানের। মায়ের কাছে দুবাই যাওয়ার আবদার করেছিল সে অনেক দিন ধরেই। ছেলের ইচ্ছেপূরণ করতেই এই সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন শুভশ্রী। কিন্তু আনন্দযাত্রা এখন পরিণত হয়েছে অপেক্ষা আর প্রার্থনার দিনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত দেশে ফেরার আশায় রয়েছেন মা ও ছেলে। কলকাতায় পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন ফোনের অপেক্ষায় থাকছেন, শুধু এই খবর শোনার জন্য যে দুজনেই সুস্থ এবং নিরাপদ আছেন।
