জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“করেছে তো একটা ‘বুড়ি’কে বিয়ে!” উদয়-অনামিকার পরে, এবার শ্বেতা-রুবেলের বয়স নিয়ে সমালোচনা! স্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যে, পাল্টা তোপ রুবেলের! নীরব না থেকে সরাসরি জবাব দিলেন অভিনেতা?

যত দ্রুত এগোচ্ছে প্রযুক্তি, ততই বাড়ছে তার অপব্যবহার। সমাজ মাধ্যম আজ শুধু তথ্য জানা বা সংযোগ রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক শ্রেণীর মানুষের কু’মন্তব্যে কার্যত অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ থেকে তারকারাও। হ্যাঁ, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তারকাদের আর দূরের মানুষ বলে মনে হয় না। একসময় দর্শকদের কাছে পর্দার মানুষরা ছিলেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তাদের দেখা পাওয়া মানেই বিশেষ সুযোগ। তবে, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিও বদলেছে। এখন ভ্লগের যুগ, ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত অনেকেই সবটা ক্যামেরাবন্দি করেন।

ঠিক তেমনই, অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও নিজেদের জীবনের নানান মুহূর্ত ভাগ করে নেন অনুরাগীদের সঙ্গে। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে অবাঞ্ছিত মন্তব্যের সংখ্যাও। প্রশংসার পাশাপাশি কটাক্ষ, বিদ্রূপ, ব্যক্তিগত আক্রমণও যেন খুব সহজ হয়ে গেছে কিবোর্ডের আড়াল থেকে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার জেরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘শ্বেতা ভট্টাচার্য’ (Sweta Bhattacharya) এবং তাঁর স্বামী ‘রুবেল দাস’ (Rubel Das)। দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে আবার পর্দায় ফিরেছেন অভিনেত্রী।

রচনা ব্যানার্জীর পরিবর্তে দিদি নাম্বার ওয়ানের সঞ্চালনায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এই নিয়েই এক নেটিজেন শ্বেতাকে উদ্দেশ্য করে বয়স নিয়ে কটাক্ষ করেন। এমনকি মন্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়, রুবেল নাকি “একজন বুড়িকে” বিয়ে করেছেন। এই ধরনের মন্তব্য যে কেবল অশোভন তাই নয়, তা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়েও পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই রুবেল চুপ থাকেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বয়স হওয়া স্বাভাবিক নিয়ম আর এই নিয়ে বিদ্রূপ করার মানে নেই। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্যকারীকে সংযত হতে বলেন এবং অন্যকে অসম্মান না করার পরামর্শ দেন।

রুবেলের কথায়, “আপনার মা এর ও তো বয়স হয়েছে, আপনি যার ভক্ত তার ও যথেষ্ঠ বয়স হয়েছে। আপনার ও বয়স হবে, এটাই কাল এর নিয়ম। নাকি এমন কোনো নেশা করেন আপনি যে জীবনে আপনার বয়স বাড়বে না। এইসব কথা কাউকে বলবেন না, ভিনদেশী রা’ক্ষস এর মত আচরণ করা বন্ধ করুন!” ঘটনাটিকে ঘিরে আরও একটি দিকও সামনে আসে। যে প্রোফাইল থেকে মন্তব্যটি করা হয়েছিল, সেখানে ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’র দুই মুখ্য অভিনেতাদের ছবি রয়েছে। যদিও তাঁদের সঙ্গে এই মন্তব্যের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই, তবু বিষয়টি নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, রুবেল একসময় পল্লবীর সঙ্গে ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন, যা তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ফলে কিছু মানুষ অকারণে বিষয়টিকে জটিল করে তুলতে চেয়েছিলেন বলেই মনে করছেন অনেকেই। এদিকে, রুবেল আর শ্বেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই দর্শকদের কাছে বেশ পছন্দের। ‘যমুনা ঢাকি’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের পরিচয়, সেখান থেকেই ভালোবাসা। বেশ কিছু বছর সম্পর্কে থাকার পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দেখতে দেখতে তাঁদের দাম্পত্য জীবনেরও এক বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। বিয়ের পরেও দুজনেই আলাদা আলাদা ধারাবাহিকে ব্যস্ত ছিলেন।

রুবেল অভিনয় করছিলেন ‘তুই আমার হিরো’তে আর শ্বেতা ছিলেন ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ ধারাবাহিকে। এখন দুজনেরই সেই ধারাবাহিকের কাজ শেষ। ব্যস্ততার ফাঁক একটু কমেছে। তাই নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর ইচ্ছেই যেন এখন বেশি। এই পুরো ঘটনার মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট যে তারকারাও মানুষ। তাঁদের সম্পর্ক, অনুভূতি, আত্মসম্মান, সবই সাধারণ মানুষের মতোই। মতের অমিল থাকতেই পারে, পছন্দ-অপছন্দও স্বাভাবিক। কিন্তু কাউকে হেয় করে আনন্দ পাওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসাটাই হয়তো এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page