‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রতিদিনই নতুন কোনও না কোনও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। নন্দিনী দত্তকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেলেও তিনি আসলে রয়েছেন সিক্রেট রুমে। আর তাঁর অনুপস্থিতিতেই মূল বাড়িতে নতুন করে অশান্তিতে জড়ালেন জিতু কমল। এবারের বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছেন তনুশ্রী। সামান্য খাবারের ভাগ নিয়ে শুরু হওয়া ঝামেলা মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বাকযুদ্ধে পরিণত হয়। চলতি সপ্তাহে রান্নাঘরের দায়িত্ব রয়েছে তনুশ্রীর হাতে। তিনি মাংস রান্না করার পর জিতু খাবার নিতে গিয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর ভাগে নির্দিষ্ট পরিমাণের তুলনায় মাংসের টুকরো কম দেওয়া হয়েছে। অভিনেতার দাবি, তনুশ্রী যখনই রান্নার দায়িত্ব পান, তখনই তাঁর খাবারের ভাগে কম পড়ে। এই অভিযোগ থেকেই তনুশ্রীর সঙ্গে শুরু হয় জিতুর তুমুল ঝামেলা।
শুধু খাবার কম দেওয়ার অভিযোগ করেই থেমে থাকেননি জিতু। তনুশ্রীকে সরাসরি ‘চোর’ এবং ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগেও তনুশ্রীকে পনির চুরি করতে দেখেছেন। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তনুশ্রীও জিতুর বিরুদ্ধে মধু চুরি করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, জিতুকে নিজের চোখে মধু চুরি করতে দেখেছেন তিনি। এমনকী বাড়ির অন্যান্য জিনিসও জিতু লুকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তনুশ্রী। কিন্তু এরপর জিতুর মুখে শোনা যায় এমন একটি মন্তব্য, যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, পরের দিন থেকে তনুশ্রীর খাওয়া বন্ধ করে দেবেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও আর তনুশ্রীর হাতের রান্না খাবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপরই বলেন, “কাল থেকে যদি তোমার খাওয়া বন্ধ না করে দিই, তাহলে আমার নামে কুকুর পুষবি।” তাঁর এই মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে তনুশ্রীর হয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন রাজবীর দে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে জিতুর সঙ্গে তাঁরও নতুন করে বচসা শুরু হয়। তনুশ্রীর পক্ষ নেওয়ায় রাজবীরকে ‘দালাল’ বলেও কটাক্ষ করেন জিতু। অন্যদিকে জিতুর সমর্থনে এগিয়ে আসেন সৃজলা গুহ। তিনি জানান, খাবার দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গেও বৈষম্য করা হয়েছে এবং তাঁর ভাগেও কম খাবার পড়েছে বলে মনে হয়েছে। সৃজলার এই বক্তব্যের পর তনুশ্রী আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একসময় তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। তখন তনুশ্রীর পাশে দাঁড়ান সোনামণি ও মনামী ঘোষ। সোনামণি এবং সৃজলার পুরনো মতবিরোধও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে চলে আসে। ফলে একটি খাবারের ভাগ নিয়ে শুরু হওয়া ঝামেলা ক্রমশ একাধিক প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত বিবাদে পরিণত হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পরেও জিতু ও রাজবীরের মধ্যে আবার নতুন করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এই ঘটনার পরেই জিতুর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিগ বসের বাড়িতে খাবার নিয়ে অভিযোগ থাকতেই পারে, কেউ নিয়ম না মানলে তার প্রতিবাদও করা যায়। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা কি এমন হওয়া উচিত? একজন সহপ্রতিযোগীর খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া কিংবা তাঁর উদ্দেশে ‘আমার নামে কুকুর পুষবি’ বলার মতো মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য? বিশেষ করে জিতুর মতো একজন পরিচিত অভিনেতার কাছ থেকে এমন ব্যবহার প্রত্যাশা করেননি অনেকেই। দর্শকদের প্রশ্ন, যে প্রতিযোগী সহবাড়ির মানুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেখাচ্ছেন না, তিনি কি আদৌ বিগ বসের বাড়িতে থাকার যোগ্য? শুধু ঝগড়া কিংবা চিৎকার করে নিজের অবস্থান বোঝানোর নামই কি খেলা? প্রতিযোগিতার মঞ্চে প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু তার অর্থ কি অন্যকে অপমান করার স্বাধীনতা? এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরছে দর্শকমহলে।
আরও পড়ুনঃ গলার স্বর বদলাতেই গান ছাড়ার ভাবনা! অরিজিতের কোন পরামর্শে চরম অবসাদ থেকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পান শ্রেয়ান?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে জিতু যদি শেষ পর্যন্ত বিগ বস বাংলার বিজেতা হন, তাহলে দর্শকরা কি তা মেনে নেবেন? দর্শকদের একাংশের মতে, একজন বিজেতার মধ্যে শুধু খেলার কৌশল নয়, ব্যবহার, সংযম এবং অন্য প্রতিযোগীদের প্রতি সম্মান দেখানোর মানসিকতাও থাকা প্রয়োজন। বারবার ঝগড়ায় জড়ানো, সহপ্রতিযোগীদের অপমান করা এবং হুঁশিয়ারি দেওয়ার মতো আচরণ কি বিজেতা হওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই? তনুশ্রীর সঙ্গে খাবার নিয়ে বিবাদের সময় জিতুর ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই। আবার রাজবীরের সঙ্গে তাঁর নতুন করে বচসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অবশ্য জিতুর সমর্থনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মতও আলাদা হতে পারে। তবে দর্শকদের একাংশের দাবি, জনপ্রিয়তা বা পরিচিতির কারণে কাউকে বিজেতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত বিগ বসের ট্রফি কার হাতে উঠবে, তা নির্ভর করবে দর্শকদের ভোটের উপর। কিন্তু জিতুর সাম্প্রতিক আচরণ তাঁর বিজেতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।
