বাংলা ছবির ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবরই কৌতূহল রয়েছে দর্শকের। সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কমের একটি চটজলদি প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মুখ খোলেন অভিনেতা। সেখানেই নিজের স্ত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন প্রসেনজিৎ, যা নতুন করে নজর কেড়েছে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জীবনে এমন কী রয়েছে যার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ। উত্তরে স্ত্রী অর্পিতার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, ‘অনেকগুলো বউ ছেড়ে গিয়েছে, অর্পিতা এখনও আমায় সহ্য করছে।’ অর্পিতার এত বছর পাশে থাকা এবং তাঁর সঙ্গে সংসার করে যাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিনেত্রী হিসেবে অর্পিতার কাজেরও প্রশংসা করেছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর কথায়, অর্পিতা কোনও কাজ হাতে নিলে সেটি খুব মন দিয়ে করেন এবং কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা রয়েছে। এই মন্তব্যের পর ফের আলোচনায় এসেছে টলিউডের এই তারকা দম্পতির দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন।
প্রসেনজিতের সঙ্গে অর্পিতার বিয়ে হয় ২০০২ সালে, তাঁর আগের একটি দাম্পত্যের ইতি ঘটার পরই। অর্পিতার আগে অভিনেতা প্রথম বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়কে। প্রসেনজিৎ ও দেবশ্রী তখন বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন এবং পর্দার সম্পর্ক বাস্তব জীবনেও গড়িয়েছিল। ১৯৯২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়, তবে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ১৯৯৫ সালে দু’জনের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৭ সালে প্রসেনজিৎ বিয়ে করেন অপর্ণা গুহঠাকুরতাকে। এই দাম্পত্যে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, নাম প্রেরণা। কয়েক বছর পর সেই সম্পর্কেও বিচ্ছেদ আসে এবং ২০০২ সালে তাঁদের পথ আলাদা হয়ে যায়। অর্থাৎ অর্পিতার সঙ্গে বিয়ের আগে প্রসেনজিতের জীবনে দু’টি বিয়ে এবং দু’টি বিচ্ছেদের অধ্যায় ছিল। তারপরই অভিনেত্রী অর্পিতা পালের সঙ্গে তাঁর নতুন করে সংসার শুরু হয়, যিনি পরে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় নামে পরিচিত হন।
অর্পিতার সঙ্গে প্রসেনজিতের সম্পর্ক অবশ্য বিয়ের আগে থেকেই অভিনয়ের সূত্রে তৈরি হয়েছিল। অর্পিতা ১৯৯৯ সালে ‘তুমি এলে তাই’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে প্রসেনজিতের সঙ্গে ‘প্রতিবাদ’ এবং ‘উৎসব’ ছবিতেও কাজ করেন তিনি। ২০০২ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং বিয়ের পর অর্পিতা কিছু সময় অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আবার অভিনয়ে ফেরেন তিনি এবং ধীরে ধীরে নিজের কাজের জায়গাটিও তৈরি করেন। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার পাশাপাশি দু’জনকে ফের পর্দাতেও দেখা গিয়েছে। ২০১৪ সালের ‘ফোর্স’ ছবিতে তাঁরা আবার একসঙ্গে অভিনয় করেন এবং সেই সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা কথা হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার ফলে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বেড়েছে। দু’জনের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে এবং পরিবারকে ঘিরেই তাঁদের দাম্পত্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আবর্তিত হয়েছে।
অর্পিতার সঙ্গে সংসার নিয়ে অতীতেও নিজের নানা অনুভূতির কথা প্রকাশ্যে বলেছেন প্রসেনজিৎ। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেকেই পরিবারের ক্ষেত্রে খুব ভালো বলে মনে করেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনের দায়িত্ব তিনি পালন করলেও ব্যক্তিগতভাবে সময় দেওয়ার জায়গায় তাঁর ঘাটতি ছিল। সেই জায়গায় অর্পিতার ভূমিকার জন্যও তাঁকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন তিনি। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সময় তাঁর জীবন কতটা কঠিন হয়ে পড়েছিল, সে কথাও জানিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। তখন তাঁর কথায়, সেই সময় তাঁকে প্রায় শূন্য থেকে নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল এবং অনেক কিছুই ছেড়ে দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে অর্পিতা জানিয়েছিলেন, স্বামী হিসেবে প্রসেনজিৎ তাঁর কাছে দায়িত্বশীল এবং কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। দু’জনের ব্যস্ত পেশাগত জীবন সত্ত্বেও নিজেদের মতো করে সম্পর্ককে সময়ের সঙ্গে বদলেছেন তাঁরা। এই দীর্ঘ পথচলার পরই সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তরে অর্পিতার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতার কথা ফের প্রকাশ করলেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ “আমার নামে কুকুর পুষবি” তনুশ্রীকে খাওয়াদাওয়া বন্ধের হুঁশিয়ারি জিতুর! রাজবীরের সঙ্গেও তুমুল বচসা, এমন অভদ্র প্রতিযোগী কি বিগ বসের বাড়িতে থাকার যোগ্য? তিনিই বিজেতা হলে মেনে নেবেন দর্শক?
বর্তমানে প্রসেনজিৎ ও অর্পিতার বিয়ের প্রায় ২৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে দু’জনেই নিজেদের অভিনয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন এবং একই সঙ্গে সংসারও সামলেছেন। অর্পিতা অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কাজের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থেকেছেন, অন্য দিকে প্রসেনজিতের অভিনয় ও প্রযোজনার ব্যস্ততা কখনও কমেনি। ২০১৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন, পরস্পরের পেশাগত জীবনে অযথা হস্তক্ষেপ না করে নিজেদের মতো করে কাজ করতেই তাঁরা স্বচ্ছন্দ। সেই সময় প্রসেনজিৎ আরও বলেছিলেন, তাঁরা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে দেখেন এবং তাঁদের সন্তানের প্রতি দু’জনেরই দায়িত্ব রয়েছে।এবার ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক কথোপকথনে স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যে সেই দীর্ঘ পথচলারই অন্য একটি দিক সামনে এল। দু’টি ভেঙে যাওয়া দাম্পত্যের পর অর্পিতার সঙ্গে যে সম্পর্ক এত বছর ধরে টিকে রয়েছে, তার জন্য তাঁকে প্রকাশ্যেই কৃতজ্ঞতা জানালেন অভিনেতা। অর্পিতার ধৈর্য, পাশে থাকা এবং অভিনয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁর কথাতেই উঠে এল দীর্ঘ দাম্পত্যের সেই স্বীকৃতি। তাই প্রসেনজিতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ফের চর্চায় তাঁর ব্যক্তিজীবনের এই দীর্ঘ অধ্যায়।
