বিগ বস বাংলার বাড়িতে ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছেন জিতু কমল। সম্প্রতি একটি বিশেষ টাস্কের মাধ্যমে এই সপ্তাহের জন্য একটি দলকে বাড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে রয়েছেন জিতু কমল, সৌরভ দাশ এবং সৃজলা গুহ। অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিন বাড়ির সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিয়মকানুন বজায় রাখার দায়িত্বও তাঁদের উপর। কিন্তু ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব সামলানোর শুরুতেই জিতুর কিছু নির্দেশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা। সম্প্রতি বিগ বসের লাইভ পর্বে দেখা যায়, সৃজলাকে বাড়ির বেশ কিছু নিয়ম বুঝিয়ে দিচ্ছেন জিতু। তাঁর কথায়, বাড়ির সদস্যদের প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই সেজেগুজে থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, রাত পর্যন্ত সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। জিতুর এই নির্দেশ শুনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দর্শকমহলে।
এর পরেই আরও কয়েকটি নিয়মের কথা সৃজলাকে জানান জিতু। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, বাড়ির যে সদস্য সবার জন্য রান্না করবেন, তাঁকে সবার শেষে খেতে হবে। অর্থাৎ, রান্নার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে অন্যদের খাওয়া শেষ হওয়ার পর নিজের খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা ব্যক্তিগত খাবার নিয়েও একটি নিয়মের কথা জানান তিনি। কোনও প্রতিযোগী যদি ফ্রিজে নিজের জন্য আলাদা করে খাবার রেখে দেন এবং পরবর্তী সময়ে সেটি খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে কাউকে সেই ঘটনার জন্য দোষী করা যাবে না। এই নিয়মগুলি সৃজলাকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই বোঝাতে দেখা যায় জিতুকে। কিন্তু বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন এবং খাবারদাবার নিয়ে এমন একগুচ্ছ নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কতটা, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পাওয়া মানেই বাড়ির প্রত্যেকের উপর নিজের পছন্দমতো নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়।
মূলত জিতুর এই নির্দেশগুলিকেই কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। একজন দর্শক ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা, বাপদের জন্মে প্রথমবার ক্যাপ্টেন হলে এটাই হয়!” অর্থাৎ, ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব পেতেই জিতুর আচরণে বাড়তি কর্তৃত্ব দেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করছেন ওই দর্শক। অন্য একজনের মন্তব্য, “মনে হচ্ছে ওর বাবার বাড়ি, গেম খেলতে না সংসার করতে এসেছে!” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েও জিতুর নিয়ম তৈরির ধরন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ওই দর্শক। অনেকেরই প্রশ্ন, বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীরা এসেছেন একটি রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিতে, সেখানে প্রতিদিনের জীবনযাপন নিয়েও এত নিয়ম তৈরি করার কী প্রয়োজন? বিশেষ করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেজেগুজে থাকার নির্দেশ নিয়ে অনেকেই মজা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রতিযোগীদের সাজপোশাকের চেয়েও তাঁদের খেলা এবং পারফরম্যান্সের দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, রান্নার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে সবার শেষে খেতে হবে, এই নিয়ম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যিনি সবার জন্য রান্না করছেন, তাঁকে আবার সবার শেষে খেতে হবে কেন? বাড়ির কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং প্রত্যেকের সুবিধা বুঝে চলার বিষয়টি আলাদা, কিন্তু সেটিকে বাধ্যতামূলক নিয়মের মতো করে দেওয়ার মধ্যে কর্তৃত্ব ফলানোর প্রবণতা রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। একইভাবে ফ্রিজে রাখা ব্যক্তিগত খাবার হারিয়ে গেলে কাউকে দোষী করা যাবে না, এই নির্দেশের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, কোনও প্রতিযোগী নিজের জন্য খাবার তুলে রাখলে সেটি হারিয়ে গেলে তাঁর অসুবিধা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেখানে আগে থেকেই কাউকে দায়ী করা যাবে না বলে নিয়ম তৈরি করার বিষয়টি অনেকের কাছেই অদ্ভুত মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে বাড়ির সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে শুরু করে খাবারদাবার, প্রায় সব বিষয়েই জিতুর এই নির্দেশ দেওয়ার ধরন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিগ বসের বাড়িতে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অন্য প্রতিযোগীদের স্বাধীনতা এবং সুবিধার বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ক্যাপ্টেনের কাজ শুধু নিয়ম তৈরি করা নয়, বরং বাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং সকলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাও। সেখানে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই যদি একের পর এক নির্দেশ দেওয়া শুরু হয়, তাহলে অন্য সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে জিতুর মতো পরিচিত মুখের কাছ থেকে এমন আচরণ অনেকেই আশা করেননি বলে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। সৃজলাকে এই নিয়মগুলি বোঝানোর সময় তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই নিয়মগুলি বাড়ির অন্য সদস্যরা কতটা মেনে নেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে জিতু কি বাড়ির সদস্যদের সমর্থন পাবেন, নাকি তাঁর এই নিয়মকানুনই নতুন বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এখন সেটাই দেখার।
