টলিউডে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে পরিচিতি তৈরি করেছেন অভিনেতা সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়। পর্দায় তাঁর অভিনয় যতটা পরিচিত, ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইটা ততটাই কঠিন। জীবনের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন তিনি। আর এবার মেয়ের এক অসাধারণ সাফল্যে গর্বে বুক ভরে উঠেছে অভিনেতার। নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাঁর মেয়ে সায়নী সাঁতরা। মেয়ের এই সাফল্য যেন বহু বছর আগের সমস্ত অপমান ও কটাক্ষের যোগ্য জবাব।
২০০৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন সাগ্নিক। সেই সময় তাঁর দুই সন্তানই ছিল বেশ ছোট। তাঁদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নেননি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী। সাগ্নিকের দাবি অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের সময় আদালতেই তাঁকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছিল, তিনি নাকি একা হাতে দুই সন্তানকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারবেন না। সেই কথাগুলি অভিনেতার মনে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাকেই জীবনের অন্যতম লক্ষ্য করে নিয়েছিলেন।
মেয়ের সাফল্যের খবর ভাগ করে নিতে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করেছেন সাগ্নিক। সেখানে মেয়ের ছোটবেলার নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি। বাবার সঙ্গে পথ চলতে গিয়ে সায়নীকেও যে কম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়নি, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। এমনকী পড়াশোনায় ভালো ফল করেও যে সবসময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়া যায়নি, সেই আক্ষেপও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।
সাগ্নিক জানিয়েছেন, ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হতে পারেনি সায়নী। সেই সময় তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় গাইডেন্সের অভাবই এর অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু তাতে দমে যায়নি মেয়ে। নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং জেদের জোরে একের পর এক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে সে। অবশেষে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার কাজ শেষ করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে সায়নী। মেয়ের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত বাবা।
পোস্টে মেয়ের ছোটবেলার মিষ্টি স্মৃতিও তুলে ধরেছেন সাগ্নিক। একসময় যে মেয়ে ছোট ছোট শব্দ ভুল উচ্চারণ করত, আজ সে নিজের নামের আগে ‘ডক্টর’ লিখতে পারবে। একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর মেয়ের এই সাফল্য সাগ্নিকের কাছেও বিশেষ আবেগের।
আরও পড়ুনঃ “যে সদস্য সবার জন্য রান্না করবেন, তাঁকে সবার শেষে খেতে হবে!” “ফ্রিজে নিজের জন্য আলাদা করে খাবার রেখে না পেলে কেউ দোষী না” ক্যাপ্টেন হতেই একগুচ্ছ নিয়ম শেখাচ্ছেন জিতু! ‘গেম খেলতে না সংসার করতে এসেছে!’ ‘বাঁদরের গলায় মুক্তর মালা, বিগ বসের বাড়িকে নিজের বাড়ি ভেবে বসেছেন?’ কটা’ক্ষ দর্শকদের!
একসময় সন্তানদের মানুষ করতে পারবেন না বলে যে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল, আজ মেয়ের আন্তর্জাতিক স্তরের এই সাফল্যই তার জবাব। সাগ্নিকের এই লড়াই নিছক একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়, বরং একক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব সামলে সন্তানকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর কাহিনি। উল্লেখ্য, বিবাহবিচ্ছেদের বহু বছর পর অভিনেত্রী শম্পার সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন সাগ্নিক। তবে মেয়ের এই সাফল্যের মুহূর্তে তাঁর আবেগঘন পোস্টে স্পষ্ট, সন্তানদের বড় করে তোলার দীর্ঘ যাত্রাটাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
