জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বাঁশ-বেড়িয়া লইয়া, বছর শেষ করিলাম”— স্যোশাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্যের আড়ালেই কি লুকিয়ে ২০২৫-এর যাবতীয় অপমান, বিতর্ক আর না বলা কষ্টের জানান দিলেন জিতু? নতুন বছরে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন অভিনেতা?

নতুন বছর আসার আগে বছরজুড়ে যে মুখগুলো বারবার খবরের শিরোনামে থেকেছে, সেই তালিকায় জিতু কমলের নাম আলাদা করে বলতেই হয়। কখনও দর্শকের ভালোবাসায় ভেসেছেন, কখনও আবার একের পর এক বিতর্ক, মানসিক চাপ আর শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে এনে দাঁড় করিয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতে। ২০২৫ সালটা তাঁর জীবনে শুধুই সাফল্যের ছিল না, ছিল আত্মসমালোচনা আর না বলা কষ্টেরও। আর ঠিক বছর শেষের মুখে সেই অভিজ্ঞতাগুলোকেই যেন হালকা মজা আর গভীর ইঙ্গিতের মিশেলে তুলে ধরলেন অভিনেতা নিজেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ছবি পোস্ট করে জিতু লিখেছেন, “বাঁশ-বেড়িয়া লইয়া, বছর শেষ করিলাম।” প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, কোনও জায়গার নাম বা নিছক রসিকতা। কিন্তু লেখাটা একটু মন দিয়ে পড়লেই বোঝা যায়, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সারাবছরের না বলা গল্প। এখানে ‘বাঁশ’ মানে কারও ক্ষতি নয়, বরং বারবার অন্যের কথা ভাবতে গিয়ে নিজেকে পিছনে সরিয়ে রাখা। জীবনের এই অভিজ্ঞতা শুধু জিতুর নয়, অনেকের সঙ্গেই এমনটা ঘটে—কিন্তু সব কথা সবাই প্রকাশ্যে বলতে পারেন না।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে, বিশেষ করে পুজোর পর, জিতু কমলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-কে কেন্দ্র করে দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে চলতে থাকা সমস্যার কথা দর্শকের অজানা নয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, একসময় ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে সহ-অভিনেতা, ইউনিটের সদস্য আর দর্শকদের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত বদলান জিতু এবং ফের কাজে ফেরেন।

কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, জিতু স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এই ধারাবাহিকের পর তিনি আর কোনও সিরিয়ালে কাজ করবেন না। দিতিপ্রিয়া চলে যাওয়ার পর নতুন অভিনেত্রী শিরিন ধারাবাহিকে এন্ট্রি নিলে, নিজের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের প্রাপ্ত পুরস্কারও তুলে দেন তাঁর হাতে। এই ঘটনায় অনেকেই অভিনেতাকে সাবধান করে দেন—অতিরিক্ত ভালো মানুষ হওয়া যেন ভবিষ্যতে তাঁর নিজের ক্ষতির কারণ না হয়।

এরই মধ্যে কাজের অতিরিক্ত চাপ শরীরেও প্রভাব ফেলে। শুটিং চলাকালীন আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। সব মিলিয়ে ভালো আর খারাপ, দুই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই কেটেছে জীতু কমলের ২০২৫। তাই বছর শেষে ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটাই আশা—নতুন বছরে তিনি যেন শুধু অন্যের কথা নয়, নিজের শরীর, মন আর জীবনের দিকেও একটু বেশি করে নজর দেন। ‘বাঁশ’ নয়, এবার জীতু কমল নিজের পাশে নিজেই দাঁড়ান।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page