বলিউডের জনপ্রিয় এক রিয়েলিটি শোর আদলে এবার বাংলার দর্শকদের জন্য আসতে চলেছে নতুন একটি নন-ফিকশন অনুষ্ঠান। বহু বছর ধরে দেশের দর্শকদের কাছে এই ধরনের ‘ঘরবন্দি’ ফরম্যাটের শো অত্যন্ত পরিচিত। যেখানে এক ছাদের তলায় দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে থাকতে হয় অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের বন্ধুত্ব, মতবিরোধ, আবেগ, সম্পর্ক এবং নানা ঘটনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এবার সেই একই ধরনের একটি অনুষ্ঠান বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল। কোন কোন তারকা এই বিশেষ ঘরে প্রবেশ করবেন, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে টলিপাড়ায়।
জানা যাচ্ছে, এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম সারির একাধিক অভিনেতা ও শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম নাম অভিনেতা জীতু কমল। সূত্রের খবর, তাঁকে এই শোয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফলে তাঁর এই রিয়েলিটি শোয়ে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও চ্যানেলের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিনোদন মহলে ইতিমধ্যেই এই খবর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জীতুর সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে।
শুধু জীতু কমল নন, এই অনুষ্ঠানের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডুর সঙ্গেও। তবে সূত্রের দাবি, তাঁরাও এই মুহূর্তে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। ফলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং আলোচিত মুখদেরই এই শোয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে নতুন করে যাঁদের নাম উঠে আসছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, অভিনেত্রী পায়েল সরকার এবং অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। যদিও এই নামগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এই সম্ভাবনাগুলি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এমন কিছু পরিচিত মুখকে এই শোয়ে আনতে চাইছে, যাঁদের উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়াবে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কে শেষ পর্যন্ত রাজি হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্রের আরও দাবি, এমন এক অভিনেত্রীর কাছেও প্রস্তাব পৌঁছেছে যিনি টলিপাড়ার নানা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পিছপা হন না। ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় নামের বিরুদ্ধেও তিনি একাধিকবার সরব হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বহুবার দাবি করেছেন যে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ সবসময় পাননি। সেই অভিনেত্রীর নাম যদিও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়াও টেলিভিশনের আরও দুই জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।
শুধু অভিনয় জগত নয়, ডিজিটাল দুনিয়ার পরিচিত মুখদেরও এই শোয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং ব্যবসায়ীর নামও আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, বাছাই পর্বের শুরুতে আরও দুই পরিচিত অভিনেত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে চ্যানেলকে বিকল্প নাম নিয়ে এগোতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কারা এই বিশেষ ঘরে প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলা ধারাবাহিকে অতিরিক্ত সাজসজ্জা, গয়না ও মেকআপের জন্য অভিনয়ই আড়াল হয়ে যায়! আগে অভিনয় জানতে হবে, তারপর সুন্দর দেখানো! বাংলা ধারাবাহিক নিয়ে বিরাট বড় মন্তব্য করলেন মুনমুন সেন
এই ধরনের অনুষ্ঠানে টানা প্রায় ৯০ দিন বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হয়। ফলে অংশগ্রহণকারীদের কাছে পারিশ্রমিকও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, উপযুক্ত পারিশ্রমিক ছাড়া এত দীর্ঘ সময় পরিবার ও কাজ থেকে দূরে থাকা সহজ নয়। বর্তমানে বিভিন্ন তারকার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই নতুন এই রিয়েলিটি শো সম্প্রচার শুরু হতে পারে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যানেলে একটি বড় কুইজ শোও আসছে, ফলে টিআরপি-র লড়াই যে জমে উঠবে তা বলাই যায়।
