ফাগুনের রঙে আজ রাঙা চারদিক। আকাশে বসন্তের আলো, বাতাসে আবিরের গন্ধ। রাজ্য জুড়ে দোল আর হোলির উৎসবের উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই আনন্দের দিনেও খানিক মনখারাপ নিয়ে ঘরে রয়েছেন জোয়ার ভাটা ধারাবাহিকের ঋষি অর্থাৎ অভিষেক বীর শর্মা। রং খেলবেন না তিনি। কারণ চন্দ্রগ্রহণ। জ্যোতিষে বিশ্বাসী এই অভিনেতা মনে করেন পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনে রং খেলা ঠিক নয়। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিষেক জানালেন, আজ শুটিং থাকার কথা থাকলেও পরে ছুটি ঘোষণা হয়েছে। তাই সারাদিন বাড়িতেই থাকবেন। বাইরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবু উৎসবের দিনে কাজ না থাকলেও মনটা খালি খালি লাগছে তাঁর।
অভিষেকের কথায়, হোলি তাঁর সবথেকে প্রিয় উৎসব। কিন্তু কলকাতায় থাকলে সেই প্রাণখোলা রং খেলার স্বাদ আর পাওয়া যায় না। বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। তাঁদের পরিবারে দোলের পরের দিন হোলি উদযাপনের রীতি। সেই বিশেষ দিনটিও এবার কাজের চাপে কেটে যাবে। তাই আক্ষেপ আরও বেশি। ছোটবেলার দিনগুলো যেন আজও চোখে ভাসে তাঁর। তখন কোনও দায়িত্ব ছিল না, ছিল না কাজের চাপ। ছিল শুধু উৎসব আর আনন্দ। সেই সময়টাকেই সবচেয়ে বেশি মিস করেন তিনি। রং মাখামাখির সঙ্গে ছিল অগাধ হাসি আর একসঙ্গে থাকার উষ্ণতা।
গ্রামের হোলির স্মৃতি বলতে গিয়ে হাসতে হাসতেই চমকে দেন অভিনেতা। ছোটবেলায় কয়েক বছর গ্রামে কাটিয়েছেন তিনি। সেখানে হোলির ধরন ছিল একেবারেই আলাদা। মাটিতে গর্ত করে তাতে গোবর দিয়ে হোলি খেলা হত। এমনকি একে অপরের মাথায় ডিম ফাটানোও ছিল মজার অংশ। শুনতে ভয়ঙ্কর লাগলেও সেই উৎসবেই ছিল সবচেয়ে বেশি আনন্দ। সেই দুষ্টুমি আর উচ্ছ্বাস আজও ভোলেননি অভিষেক। হয়তো সেই কারণেই এখন ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের সঙ্গে রং খেলতে নামলে সকলে একটু ভয়ই পান তাঁকে। কারণ তিনি রং মাখাতে ছাড় দেন না কাউকেই।
শুধু রং নয়, খাবারও ছিল তাঁদের হোলির বড় আকর্ষণ। বাড়িতে এদিন রান্না হত নানা পদের সুস্বাদু খাবার। চিকেন, মাটন, পোলাও থেকে শুরু করে মালপোয়া আর নিমকি। উৎসব মানেই ছিল জমিয়ে খাওয়া আর একসঙ্গে সময় কাটানো। পরিবার আর পাড়ার মানুষ মিলে একসঙ্গে উদযাপন করতেন দিনটি। সেই মিলনমেলার আবহ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না বলেই মনে করেন অভিনেতা। সময় বদলেছে, বদলেছে উদযাপনের ধরনও। তবু স্মৃতির ভাঁড়ারে জমে থাকা সেই রঙিন দিনগুলোই তাঁকে বারবার টানে।
আরও পড়ুনঃ বড়পর্দার আগেই চর্চায় ‘দিব্য’ জুটি! দিব্যজ্যোতি ও দিব্যাণীর দোল ছবিতে উস্কে দিল জল্পনা! রঙে রঙে কি তবে প্রেমের স্বীকারোক্তি? পর্দার রসায়ন কি বাস্তবেও?
বর্তমানের হোলি নিয়ে খানিক আক্ষেপও রয়েছে অভিষেকের। তাঁর মতে, এখন উৎসবের চেয়ে প্রদর্শনই বেশি চোখে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছবি আর ভিডিও ভাগ করে নেওয়ার হিড়িক যেন আসল আনন্দকে ঢেকে দেয়। আগের মতো সরলতা আর আন্তরিকতা কমে গেছে। তবু তিনি বিশ্বাস করেন উৎসবের আসল মানে ভালোবাসা আর একসঙ্গে থাকা। হয়তো এ বছর রং খেলবেন না, তবু স্মৃতির রং মুছে যায় না কখনও। সেই রংই তাঁকে ভরিয়ে রাখে প্রতি বসন্তে।
