রাজবীরের জন্য নিজের ট্রফিও ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি! বিগ বসের ঘরে বেশিদিন থাকার সুযোগ পাননি, তবু দর্শকের মনে জায়গা করে নিলেন জয়িতা! প্রতিযোগিতা থেকে আগেই বিদায়, এবার ‘বিগ বস বেস্ট পপুলার ফেস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অভিনেত্রী, অভিনন্দন জানাচ্ছেন দর্শকরা!

বিগ বস বাংলার তৃতীয় মরসুমে প্রতিযোগীদের নিয়ে দর্শকদের মধ্যে চর্চার শেষ নেই। কারও খেলা পছন্দ হচ্ছে, আবার কারও আচরণ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে এই প্রতিযোগিতার মাঝেই এমন একজন প্রতিযোগী দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন, যাঁর সফর প্রত্যাশার অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি জয়িতা চট্টোপাধ্যায়। বিগ বসের ঘরে মাত্র কয়েক সপ্তাহ থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের ব্যবহার এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে অনেকের মন জয় করেছিলেন তিনি। এবার সেই জয়িতার হাতেই উঠেছে বিগ বস বাংলার তৃতীয় মরসুমের জনপ্রিয় মুখের সম্মান। প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরেও দর্শকদের ভালোবাসা যে তাঁর প্রতি এতটুকু কমেনি, এই স্বীকৃতি যেন তারই প্রমাণ। সমাজমাধ্যমে এক দর্শক জয়িতার এই সম্মান পাওয়ার খবর ভাগ করে নিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর মতে এই স্বীকৃতি অভিনেত্রীর প্রাপ্য ছিল। এমনকি বিগ বসের ঘরে জয়িতার মতো সহজ, সরল ও আন্তরিক প্রতিযোগী খুব কমই দেখা গিয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।

জয়িতার বিগ বসের সফর অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। ঘরে প্রবেশের পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগীর সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন তিনি। কখনও নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে ফল পরিষ্কার করা নিয়ে কথা কাটাকাটি, কখনও মনামী ঘোষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি, আবার কখনও অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে মতের অমিল, সব মিলিয়ে প্রথম থেকেই আলোচনায় ছিলেন অভিনেত্রী। ঘরের অনেকেই তাঁর উপস্থিতিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। মনোনয়ন পর্বেও একাধিক প্রতিযোগী তাঁকে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভোটে দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিগ বসের ঘর ছাড়তে হয় জয়িতাকে। অথচ অভিনেত্রীর নিজেরও মনে হয়েছিল, ঘরের পরিবেশের সঙ্গে তিনি তখন সবে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন। নিজের ব্যক্তিত্বের আরও অনেক দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাননি। বিদায়ের পর সাক্ষাৎকারে জয়িতা জানিয়েছিলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এই বিদায় কিছুটা অন্যায় হয়েছে। কারণ, ঘরের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং প্রতিযোগিতার সমীকরণ বোঝার আগেই তাঁর সফর শেষ হয়ে যায়। আরও কিছুদিন থাকলে নিজের খেলা দেখানোর সুযোগ পেতেন বলেও আক্ষেপ করেছিলেন তিনি।

তবে বিগ বসের ঘরে জয়িতার সবচেয়ে আলোচিত সমীকরণগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল রাজবীর দে-র সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব। ঘরের অন্যদের সঙ্গে মতবিরোধের সময় রাজবীরকে পাশে পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। জয়িতার কথায়, রাজবীরই তাঁকে বিগ বসের ঘরের নানা হিসাব বুঝতে সাহায্য করেছিলেন এবং অন্যদের আক্রমণের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি একটি কথোপকথনে রাজবীরের জন্য নিজের ট্রফি ছেড়ে দিতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে অবাক হয়েছিলেন রাজবীর নিজেও। তবে রাজবীর তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, নিজের লড়াই নিজেকেই করতে হবে। অন্যদিকে, দর্শকদের একাংশের কাছে জয়িতা ও রাজবীরের এই বন্ধুত্ব বেশ ভালো লেগেছিল। তাঁদের মতে, জয়িতা নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে বন্ধুর পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে নিজের জায়গা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে অন্যের জন্য নিজের প্রাপ্তি ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা দর্শকদের নজর কেড়েছে। সেই কারণেই হয়তো অল্প দিনের সফরেও জয়িতাকে নিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা আবেগ তৈরি হয়েছিল।

বিগ বস থেকে বেরিয়ে আসার পর জয়িতাকে ঘিরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও কম ছিল না। সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুরাগীরা অভিনেত্রীর বিদায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। কেউ কেউ মনে করেছিলেন, জয়িতাকে আরও কিছুদিন ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, অভিনেত্রী নিজেও বিদায়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার ইচ্ছা নিয়েই বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ পুরোপুরি পাওয়ার আগেই তাঁকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তবুও দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। জয়িতা আরও জানিয়েছিলেন, তাঁর অনুরাগীদের আবেগ এবং প্রতিক্রিয়াকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর প্রতি ভালোবাসা যেন অন্য কারও প্রতি বিদ্বেষে পরিণত না হয়, সেই আবেদনও করেছিলেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছে।

এবার সেই জয়িতার হাতেই জনপ্রিয় মুখের সম্মান আসায় খুশি তাঁর অনুরাগীরা। সমাজমাধ্যমে এক দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে, বিগ বসের ঘরে জয়িতা হয়তো বেশিদিন থাকার সুযোগ পাননি, কিন্তু অল্প সময়েই দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়েছেন, সেটাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। অনেক প্রতিযোগী দীর্ঘদিন ঘরে থেকেও এমন আন্তরিক সমর্থন পান না বলে মনে করছেন ওই দর্শক। তাঁর মতে, জয়িতার সবচেয়ে বড় গুণ হল তাঁর সহজ-সরল মন এবং অন্যের জন্য ভাবার মানসিকতা। রাজবীরের জন্য নিজের ট্রফি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করাও সেই স্বভাবেরই পরিচয়। সব মিলিয়ে, প্রতিযোগিতার মঞ্চে জয়ী হতে না পারলেও দর্শকদের ভালোবাসায় নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। বিগ বসের ঘর থেকে তাঁর বিদায় হয়ে গেলেও এই নতুন সম্মান তাঁর সফরে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। দর্শকদের এই ভালোবাসাই আগামী দিনে অভিনয়ের জগতে তাঁকে আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page