“দূরে চলে গেলে শান্তি পাবে, চাইনি ভালবেসে ফেল!” জিতুকে নিয়ে বারবার ভালোবাসার ইঙ্গিত সৃজলার! দর্শকের নজর কাড়তেই কি নতুন কৌশল? শনের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে এর প্রভাব পড়বে না তো? ‘জেতার তাগিদে বাস্তবের প্রেমিককে কষ্ট দিতে বাঁধছে না?’ প্রশ্ন বিগ বসের দর্শকদের!

‘বিগ বস বাংলা’র বাড়িতে প্রতিযোগীদের খেলা যত এগোচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। কখনও বন্ধুত্ব, কখনও মনোমালিন্য, আবার কখনও একে অপরের প্রতি বিশেষ দুর্বলতার ইঙ্গিত, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছেন প্রতিযোগীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী সৃজলা গুহ এবং জিতু কমলের সম্পর্ক। প্রথম দিকে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মতের অমিল দেখা গেলেও, সময়ের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে বলেই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। প্রায়ই দু’জনকে একান্তে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কখনও একসঙ্গে সময় কাটানো, কখনও একে অপরের কথায় গুরুত্ব দেওয়া, আবার কখনও খুনসুটিতে মেতে ওঠা, সব কিছুই নজর এড়াচ্ছে না দর্শকদের। এবার জিতুকে নিয়ে সৃজলার মুখে ভালোবাসার কথা শোনার পর সেই চর্চা আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ঘনিষ্ঠতা কি শুধুই বন্ধুত্ব, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ?

সম্প্রতি বিগ বসের বাড়িতে জুতো রাখা নিয়ে জিতু ও সৃজলার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় নন্দিনী দত্ত সৃজলাকে জিতুর ‘স্যাটেলাইট’ বলে কটাক্ষ করেন। জিতু সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ না করায় আরও অভিমানী হয়ে পড়েন সৃজলা। রণিতা দাস তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও অভিনেত্রী নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। পরে জিতু নিজে এসে তাঁকে টাস্কে অংশ নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু সৃজলার অভিমান তখনও কমেনি। জিতুর উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনেক করেছ।” এরপর নিজের মনে অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, “দূরে চলে গেলে শান্তি পেয়ে যাবে। চাইনি ভালবেসে ফেল!” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। এর আগেও জিতুকে নিয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন সৃজলা। ফলে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

শুধু এই একটি মন্তব্য নয়, এর আগেও জিতু ও সৃজলার কথোপকথন নিয়ে চর্চা হয়েছে। জন্মদিনে বোনের সঙ্গে ভিয়েতনাম বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সৃজলা। সেই কথা শুনে জিতুও তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এমনকী সৃজলার বোনের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন অভিনেতা। অন্যদিকে, দু’জনকে একসঙ্গে কফির আড্ডায় নানা পরিকল্পনা করতেও দেখা গিয়েছে। বাড়ির দায়িত্ব সামলানোর সময় সৌরভ দাসের দেওয়া কিছু পরিকল্পনা একসঙ্গে বাতিল করার কথাও ঠিক করেছিলেন তাঁরা। ভূতের টাস্কের সময়ও দু’জনকে পাশাপাশি বসে দীর্ঘক্ষণ গল্প করতে দেখা যায়। এই সমস্ত মুহূর্ত থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও দু’জনের কেউই তাঁদের সম্পর্ককে প্রেমের সম্পর্ক বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। বরং তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দর্শকদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে নানা মত।

তবে সৃজলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের চর্চা দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ায় রয়েছে। ‘মন ফাগুন’ ধারাবাহিকে কাজ করার সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে সব কথা জানাননি তাঁরা, তবু শনের সঙ্গে সৃজলার সম্পর্কের বিষয়টি অনুরাগীদের কাছে নতুন নয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিগ বসের বাড়িতে জিতুকে নিয়ে সৃজলার এমন মন্তব্য কতটা স্বাভাবিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ক্যামেরার সামনে বারবার ভালোবাসার কথা বলে কি দর্শকদের মনোযোগ নিজের দিকে টানতে চাইছেন অভিনেত্রী? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব তাঁর বাইরের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও পড়তে পারে। শনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণে এই নতুন ঘনিষ্ঠতা কোনও অস্বস্তি তৈরি করবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

এর আগে বিগ বসের বাড়িতে সৃজলার সঙ্গে গায়ক দুর্নিবার সাহার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। তাঁদের বন্ধুত্বের মধ্যে প্রেমের ইঙ্গিত খুঁজেছিলেন দর্শকদের একাংশ। এমনকি এক পর্যায়ে সৃজলাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “তুমিই আমার প্রায়োরিটি।” সেই সময়েও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পরে দুর্নিবারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লে জিতুর সঙ্গে সৃজলার বন্ধুত্ব আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এবার জিতুকে নিয়ে ভালোবাসার কথা বলায় সেই পুরনো আলোচনা আবার সামনে এসেছে। কেউ মনে করছেন, সৃজলা হয়তো নিজের মতো করেই সম্পর্কের সমীকরণ সামলাচ্ছেন, আবার কারও মতে, বিগ বসের বাড়িতে দর্শকদের নজর ধরে রাখার জন্য এই ঘনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এই সমস্ত ধারণাই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও জল্পনার ভিত্তিতে তৈরি। সৃজলার প্রকৃত অনুভূতি কী, জিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে এবং শনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সমীকরণে এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তার উত্তর আপাতত সময়ের অপেক্ষা।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page