জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

পাঁচ বছরে মেলেনি কোন‌ও অফিস! গোষ্ঠীদ্বন্দেই শেষ তৃণমূল, রাজনীতি ছেড়ে স্বস্তিতে কাঞ্চন! মুখ খুললেন শাসক দলের বিরুদ্ধে

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কাঞ্চন মল্লিক জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে আর রাজনীতির ময়দানে নামবেন না তিনি। উত্তরপাড়া কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে ফল ঘোষণার পর বদলে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা। শুরুতেই তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম।” কাঞ্চনের দাবি, তিনি অনেক বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন, কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়াদে নিজের কোনও অফিস পাননি। উত্তরপাড়ার মাখলার একটি ক্লাব থেকেই কাজ চালাতে হয়েছে তাঁকে। সেখান থেকেই মানুষের সমস্যা শুনেছেন, কাজ করেছেন এবং নিজের কাজের তালিকাও এলাকার মানুষকে দিয়েছেন। ভোটে জয়ের পরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি যে হতাশ ছিলেন, কথাতেই তা স্পষ্ট।

কাঞ্চন আরও বলেন, দায়িত্বে থাকার সময় স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে তিনি “মিষ্টি ব্যবহার, খারাপ ব্যবহার, অসহযোগিতা সবই” পেয়েছেন। তবুও দলীয় কোন্দল বাইরে না আসুক, সেই কারণেই তিনি চুপ ছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ চেয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম।” পাঁচ বছর বিধায়ক থাকার পর তাঁর মনে হয়েছে, এই ক্ষেত্র তাঁর জন্য নয়। তিনি বলেন, “আমার পেশা অভিনয় করা। সেখান থেকে মনে হয়েছে, হয়তো আমি বিধায়কপদের যোগ্য নই।” প্রায় ৩০ বছরের অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি জানান, অভিনয়ের কাজেই তিনি বেশি দক্ষ এবং সেই কারণেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন।

রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে কাঞ্চন বলেন, তিনি এত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়বেন, তা আগে ভাবেননি। তাঁর মতে, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না থাকলে এই পরাজয়টা হয়তো হত না।” তবে তিনি মনে করেন, সময় থাকতে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া ঠিক হয়েছিল। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এখানে নেই মানে যে ওখানে যাব, সেটাও নয়। আমি কোথাও নেই।” বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে নিজের কাজ নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা করে বেরিয়ে এসেছি। কার্যকাল সম্পন্ন করেছি।” উত্তরপাড়ার মানুষকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য অভিনয় এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।

ফল প্রকাশের পর বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের জয়ে খুশি কাঞ্চন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী রুদ্রনীলকে নিয়ে তিনি বলেন, “রুদ্রও রাজনীতির শিকার। প্রায় বয়কট করা হয়েছে ওকে। কাজের ক্ষেত্রে বাধা পেয়েছে। এত কিছুর পরেও ও নিজের জায়গা ছাড়েনি।” অন্যদিকে, রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভোট-পরবর্তী কাদা ছোড়ার ঘটনাও ভালভাবে নেননি তিনি। সেই প্রসঙ্গে কাঞ্চনের মন্তব্য, “একটা মানুষ সবসময় কি প্রথম হবে? সম্ভব? আপনার আনন্দ যেন কারও নিরানন্দের কারণ না হয়, এটা ঠিক নয়।” যদিও এই বিতর্কে আর বাড়তি কথা বলতে চাননি তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন রাজনীতি নয়, কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনই তাঁর অগ্রাধিকার।

৬ মে কাঞ্চনের জন্মদিন। তাই রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ ভুলে এখন বাড়িতে উৎসবের আবহ। স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ জানিয়েছেন, “মেয়ে অসুস্থ ছিল। তাই খুব বেশি কিছু পরিকল্পনা করিনি। বাড়িতে ওর প্রিয় পদ রান্না করব।” কাঞ্চনের জন্য বিশেষ থালা সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কথোপকথনের সময় কাঞ্চনের পাশেই ছিলেন শ্রীময়ী। প্রসঙ্গ ওঠে অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়েরও, যিনি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। শ্রীময়ী বলেন, “শর্বরীদির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। ২০২১ সালে যে বার কাঞ্চন জিতেছিল তখন বলেছিলাম তুমি কেন এখনও ওই দলে আছ। কিন্তু শর্বরীদি ঘোষিত বিজেপি ছিল বরাবরই। দাঁতে দাঁত চেপে পড়েছিল। দলের হয়ে পরিশ্রম করেছিল। অবশ্যই শুভেচ্ছা জানাব।” এখন সংসার, শুটিং আর জন্মদিনের আনন্দেই ব্যস্ত তাঁদের পরিবার।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page