রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে টলিউডের কাজের পরিবেশও। দীর্ঘদিন ধরে যে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিযোগ উঠছিল, তা অনেকটাই শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন একাধিক শিল্পী। যাঁরা এতদিন কাজের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তাঁদের অনেকেই আবার নতুন করে শুটিং ফ্লোরে ফিরতে শুরু করেছেন। এই পরিবর্তনের আবহেই সম্প্রতি পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া ফেডারেশন সংক্রান্ত জটিলতাও আলোচনায় আসে। যদিও পরে আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় এবং পরিচালকের নতুন ছবির শুটিংও শুরু হওয়ার পথ খুলে যায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা, যখন দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়, “ব্যান কালচারের শিকার হয়েছিলেন কৌশিক… কেমন ছিল অন্ধকারের দেড় বছর?” সেই প্রশ্নের উত্তরে চূর্ণী অকপটে বলেন, “অবশ্যই এই সময়টা আমাদের সবার জন্য অনেক কঠিন ছিল। কাজ বন্ধ মানে রোজগারও বন্ধ। পরবর্তী কাজ কবে হবে তারও কোনও ঠিক নেই। এমন পরিস্থিতিতে যতটা বুঝে চলা যায় করেছি।” তিনি জানান, এই লড়াই শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত ছিল না, বরং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবনও একইভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তাই সেই বাস্তবতাকে কখনও আলাদা করে দেখেননি তাঁরা। চূর্ণী আরও বলেন, “নিজের শখ বলে কিছুই মাথায় আসেনি, আসলে আমাদের সঙ্গে তো আরও অনেকের পরিবার এবং সংসার যুক্ত থাকে।
যেখানে তারা অভাব ও অনটনে রয়েছেন, আমি চারটে জমানো টাকা আছে বলে বিলাসিতায় জীবন কাটাব এটা হয় না।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, কঠিন সময়ে শুধুমাত্র নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভাবেননি তাঁরা। বরং যাঁরা প্রতিদিনের কাজের উপর নির্ভর করে সংসার চালান, তাঁদের অবস্থার কথাও সমানভাবে অনুভব করেছেন। অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমাদের আর্থিক অবস্থা এমন নয় যে সবার পাশে দাঁড়াব, তাই তাদের পাশে না দাঁড়াতে পারলেও তাদের মতো সাধারণ জীবন যাপন করার চেষ্টা করেছি।” এই মন্তব্যে সেই সময়ের মানসিক এবং আর্থিক চাপের ছবিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি নিজের অনুভূতির কথাও ভাগ করে নেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালক বলেন, “মাঝে মাঝে নিজেকে ব্যর্থ বলে মনে হয় তখন কোটি কোটি টাকার ছবি হলেও সেই সমস্ত পর্দার আড়ালের মানুষদের মুখে একটুও হাসি দেখতে পাই না।” তাঁর মতে, একটি ছবি শুধুমাত্র পরিচালক বা অভিনেতাদের পরিশ্রমে তৈরি হয় না। এর পিছনে অসংখ্য টেকনিশিয়ান, কর্মী এবং নেপথ্যের মানুষের নিরলস পরিশ্রম থাকে। তাই তাঁদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সেই কষ্ট একজন নির্মাতা হিসেবেও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এই কারণেই সাফল্যের মধ্যেও অনেক সময় নিজেকে সম্পূর্ণ সুখী বলে মনে হয় না।
আরও পড়ুনঃ এই পৃথিবীতে আমার বিকল্প খুঁজে পাবি? ও পারবে আমাকে ছাড়া?…. শুভশ্রীর একের পর এক ছক্কায় বেসামাল দেব! প্রাক্তনের ওপর অধিকার দেখালেন নায়িকা?
দীর্ঘ দেড় বছরের সেই কঠিন অধ্যায় এখন অনেকটাই অতীত। ফেডারেশন সংক্রান্ত জটিলতা মিটিয়ে আবারও নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখনও তাঁদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। চূর্ণী এবং কৌশিকের এই সাক্ষাৎকারে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং টলিউডের অসংখ্য নেপথ্য কর্মীর অনিশ্চিত জীবনের কথাও উঠে এসেছে। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, একটি শিল্পের সাফল্য তখনই অর্থপূর্ণ, যখন সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক মানুষ সম্মানের সঙ্গে নিজের কাজ এবং জীবন চালিয়ে যেতে পারেন।
