জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

সব বিষয়ে মুখ খুললেও ব্যান কালচারের বিরুদ্ধে সরব হননি কেন? অনির্বাণ, ঋদ্ধিকে ব্যান করার সময় কেন নীরব ছিলেন কৌশিক সেন? অবশেষে মুখ খুলে কঠিন সময়ের অজানা কথা জানালেন অভিনেতা!

বাংলা অভিনয় জগতে কৌশিক সেন নিজেই একটি পরিচিত নাম। অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, থিয়েটার এবং সাংস্কৃতিক জগতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর ছেলে ঋদ্ধি সেনও নিজের অভিনয় প্রতিভায় তৈরি করেছেন আলাদা জায়গা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা বাংলা সিনেমা ও নাটকের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তবে একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে ঋদ্ধির কাজ নিয়েই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। তাঁকে একটি ছবিতে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি কৌশিকের। সম্প্রতি সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। আর সেখানেই উঠেছে প্রশ্ন, এত পরিচিত একজন অভিনেতা এবং ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হয়েও কেন ছেলের হয়ে কারও কাছে সুপারিশ করেননি তিনি?

কৌশিক সেনের কথায়, সেই সময় ঋদ্ধি একটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল এবং খুব তাড়াতাড়ি ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকাই একদিন সকালে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ঋদ্ধিকে কোনওভাবেই ওই ছবিতে নেওয়া যাবে না। এমনকি ঋদ্ধিকে নেওয়া হলে ছবিটিই আর করা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল। কৌশিক জানান, বিষয়টি জানার পর একদিনের মধ্যে তাঁর কাছে অন্তত ১৩ থেকে ১৭টি ফোন এসেছিল। এরপর ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাস নিজে তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং খুব ঠান্ডা গলায় ঋদ্ধির সামাজিক মাধ্যমের কিছু পোস্ট নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেই পোস্টগুলি কীভাবে ফেডারেশনকে ছোট করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, সেই বিষয়টিই তাঁকে জানানো হয়। কৌশিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কারণেই ঋদ্ধির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে সেই সময় ছেলের হয়ে কৌশিক সেন কোনও সুপারিশ করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। কারণ তিনি নিজে ইন্ডাস্ট্রির বহু বছরের পরিচিত মুখ এবং বিভিন্ন মহলে তাঁর যোগাযোগও রয়েছে। তবুও ঋদ্ধির উপর থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তিনি কাউকে ফোন করেননি বা কারও কাছে অনুরোধ করেননি বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। কৌশিকের কথায়, তিনি পরিস্থিতিটিকে নিজের মতো করে সামলেছেন এবং ছেলের পেশাগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও আলাদা করে হস্তক্ষেপ করেননি। এই ঘটনায় ঋদ্ধির কাজ কিছুটা থমকে গেলেও তাঁর অভিনয় থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে ফের একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি এবং নিজের অভিনয় দক্ষতার জোরেই দর্শকদের নজরে থাকেন। সম্প্রতি পাভেলের পরিচালনায় ‘ডাক্তারকাকু’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋদ্ধি, তাঁর নাম ‘পুশকিন’। পাভেল ও ঋদ্ধিকে দেখা যাবে ছোটবেলার দুই বন্ধুর ভূমিকায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘ডাক্তারকাকু’ ছবিটির শুটিং হয়েছিল ২০২২ সালে। এরপর একাধিক কারণে ছবিটির মুক্তি আটকে ছিল। অবশেষে দীর্ঘ চার বছর পর ২০২৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে আসতে চলেছে ছবিটি। ছবিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার খরচ, সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং মানবিকতার মতো বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে একজন চিকিৎসকের ভূমিকায়। অন্যদিকে ঋদ্ধির চরিত্র ‘পুশকিন’ এবং পাভেলের চরিত্র ‘পচা’ একে অপরের ছোটবেলার বন্ধু। এই ছবিতে ঋদ্ধির অভিনয় নিয়েও পরিচালক পাভেল ইতিমধ্যেই প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, পুশকিন হিসেবে ঋদ্ধিকে পাশে পাওয়ার কারণেই ‘পচা’ চরিত্রটি তাঁর কাছে আরও সহজ হয়ে উঠেছিল। ফলে একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া সেই অভিনেতাই এবার বড় পর্দায় নতুন কাজ নিয়ে ফিরছেন।

ঋদ্ধিকে ঘিরে সেই পুরনো অধ্যায় নিয়ে কৌশিক সেনের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ফের আলোচনা শুরু হয়েছে বাবা ও ছেলের সম্পর্ক এবং ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে। একদিকে প্রশ্ন উঠছে, ছেলের এমন অসহায় পরিস্থিতিতে কৌশিক কেন সরাসরি কারও কাছে সুপারিশ করলেন না। অন্যদিকে তাঁর বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি ছেলের হয়ে প্রভাব খাটানোর বদলে পরিস্থিতিকে অন্যভাবে সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঋদ্ধিও শেষ পর্যন্ত নিজের অভিনয় প্রতিভার উপর ভরসা রেখেই কাজের জগতে এগিয়ে চলেছেন। এখন ‘ডাক্তারকাকু’ তাঁর সেই প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হয়ে উঠতে পারে। ২০২২ সালে শুটিং হওয়া ছবিটি অবশেষে ২০২৬ সালে মুক্তির মুখ দেখছে। ফলে পুরনো বিতর্কের পাশাপাশি নতুন ছবিতে ঋদ্ধির অভিনয় নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর কৌশিক সেনের মুখে সেই সময়ের ঘটনা শোনার পর নতুন করে সামনে এসেছে একটাই প্রশ্ন, ছেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরও কেন নীরব ছিলেন তিনি?

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page