জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

কলকাতার ঐতিহ্যে ধাক্কা! উত্তরে বিনোদিনী (স্টার) থেকে দক্ষিণে প্রিয়া’র সঙ্গে নবীনা, পরপর প্রেক্ষাগৃহে তালা! প্রথম সারির তিন হলে হঠাৎ অন্ধকারে টলিপাড়ায় আতঙ্ক! টলিউডের ধ্বংস কি তবে নিশ্চিত?

কলকাতার প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতিতে যেন এক অস্বস্তিকর অধ্যায় শুরু হয়েছে। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিনোদিনী থিয়েটার, যা একসময় স্টার নামে পরিচিত ছিল, হঠাৎ করেই টানা তিন দিন বন্ধ। তার আগেই বুধবার থেকে তালা পড়ে দক্ষিণ কলকাতার জনপ্রিয় প্রিয়া সিনেমাহলে। একই সময়ে বন্ধ রয়েছে নবীনা প্রেক্ষাগৃহও। একের পর এক প্রেক্ষাগৃহে অন্ধকার নেমে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে টলিপাড়ায়। দর্শকশূন্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তবে পরপর তিনটি প্রথম সারির হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি কেবল সাময়িক সমস্যা, নাকি এর পিছনে রয়েছে গভীর সঙ্কট।

নবীনা হলের মালিক নবীন চৌখানি অবশ্য অন্য সুরে কথা বলছেন। তাঁর দাবি, প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার কারণ দর্শক নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণ। নিয়মিত সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি ঠিক রাখতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন, শুধু বাংলা ছবি নয়, হিন্দি ছবির অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ফলে ব্যবসায়িক দিক থেকে চাপ থাকলেও আপাতত সেটিই বন্ধের মূল কারণ নয় বলে তাঁর বক্তব্য। তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি আশ্বস্ত নন অনেকে, কারণ একই সময়ে একাধিক হল বন্ধ থাকায় জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে ফের খোলার কথা বিনোদিনী ও প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহ। নতুন ছবি মুক্তিকে কেন্দ্র করে আবার আলো জ্বলবে হলে। বিনোদিনীতে আসছে প্রোমোটার বৌদি এবং পয়লা বৈশাখ, সঙ্গে চলবে প্রজাপতি ২। অন্যদিকে প্রিয়ায় দর্শক টানার ভরসা কেরালা স্টোরি ২ এবং মর্দানি ৩। মালিকদের আশা, নতুন ছবির হাত ধরে আবার দর্শক ফিরবে প্রেক্ষাগৃহে। বিশেষ করে উৎসবের আবহে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলি কিছুটা হলেও ব্যবসার হাল ফেরাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে প্রিয়া সিনেমাহলের মালিক অরিজিৎ দত্ত খোলাখুলি স্বীকার করেছেন আর্থিক চাপে থাকার কথা। তাঁর কথায়, দিনে দশ হাজার টাকারও কম আয় হলে তার অর্ধেকই চলে যায় পরিবেশকের কাছে। বাকি টাকার বড় অংশ বিদ্যুৎ বিল, প্রজেকশন খরচ এবং কর্মীদের বেতনে ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে হল সংস্কারের মতো অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রিয়া এখনই সংস্কারের প্রয়োজন নেই, মূল সমস্যা আয় কমে যাওয়া।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, প্রেক্ষাগৃহে কি সত্যিই দর্শক কমে যাচ্ছে, নাকি সময়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে দেখার অভ্যাস। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দাপট, বাড়ির আরামের প্রলোভন এবং টিকিটের দাম বৃদ্ধি মিলিয়ে সিনেমা হল ব্যবসা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। তবু আশাবাদী প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা। নতুন ছবি, ভাল কনটেন্ট এবং উৎসবের মরসুম হয়তো আবার ভরাবে খালি আসন। এখন দেখার, আলো নেভা এই হলগুলি আবার কত দ্রুত ফিরে পায় তাদের পুরনো জৌলুস।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page