দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় কুকিং শো ‘রান্নাঘর’-এর অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী ‘কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Koneenica Banerjee)। সেই অনুষ্ঠান থেকেই দর্শকদের সঙ্গে তাঁর এক আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এত বছর কাজ করার পর আচমকা ‘রান্নাঘর’ থেকে সরে যেতে হওয়ার কষ্ট এখনও কি তাঁকে তাড়া করে? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী খোলাখুলি নিজের অনুভূতির কথা জানান। পাশাপাশি মায়ের স্মৃতি, ‘রান্নাঘর’-এর সঙ্গে তাঁর আবেগের যোগ এবং বর্তমানে নতুন নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’ নিয়ে ব্যস্ততার কথাও ভাগ করে নেন তিনি।
প্রশ্নের উত্তরে কনীনিকা বলেন, “আমি রোজ রান্নাঘরের শুটিং করতে যাওয়ার আগে মা অন্নপূর্ণাকে প্রণাম করে যেতাম। আমার মা খুব বড় ভক্ত ছিলেন মা অন্নপূর্ণার। নিজের উদ্যোগে পাড়ায় অন্নপূর্ণা পুজো শুরু করেছিলেন তিনি। মা মারা যাওয়ার পর রান্নাঘর শোটি পেয়ে প্রথম পারিশ্রমিক দিয়ে আমি বাড়িতে অন্নপূর্ণা পূজা করি এবং নিত্য নিয়মিত পূজো হয়।” অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, অনুষ্ঠানটি তাঁর কাছে শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব ছিল না, বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক স্মৃতি এবং মায়ের আশীর্বাদের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। তাই এই অনুষ্ঠান তাঁর জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
এরপর তিনি স্বীকার করেন, “অবশ্যই মন খারাপ লেগেছিল তখন, এতদিন ধরে কাজ করতে করতে সবার সঙ্গে যে আন্তরিকতা তৈরি হয়েছিল, দর্শক এত ভালোবাসা দিয়েছিলেন। আমিও রান্না করতে ভালবাসি বলে আরো ভালো লাগতো রোজ যেতে।” তবে সময়ের সঙ্গে সেই কষ্ট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন বলেও জানান কনীনিকা। তাঁর কথায়, “তবে এখন আর খারাপ লাগে না যখন দেখি রান্নাঘর শোটা আর রান্নাঘর নেই! বরং এখন ওনারা যেভাবে সবটা সাজিয়েছেন কোনোভাবেই সেটার সঙ্গে আমি খাপ খাওয়াতে পারতাম না। শোটা পুরো অন্যরকম হয়ে গেছে।” অর্থাৎ, বর্তমান রূপে অনুষ্ঠানটি বদলে যাওয়ায় তিনি মনে করেন, সেই পরিবেশে নিজেকে আর আগের মতো খুঁজে পেতেন না।
প্রসঙ্গত, অতীতের আবেগকে সঙ্গে নিয়েই এখন নতুন কাজের প্রস্তুতিতে মন দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, তাঁর নতুন নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’ নিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। এটি শুধুমাত্র একটি নৃত্যনাট্য নয়, বরং গান, অভিনয়, নৃত্য এবং নতুন ভাবনার সমন্বয়ে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। এই প্রযোজনার পিছনে কোনও বড় কর্পোরেট সংস্থার সহায়তা নেই। প্রযোজক সৈকত নিজেই সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে অনুষ্ঠানটি তৈরি করছেন। তাই দর্শকদের উপস্থিতিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন কনীনিকা।
আরও পড়ুনঃ বি’পদ এখনও কাটেনি, গায়ে ধুম জ্বর! হাসপাতালে আ*শঙ্কাজনক অবস্থায় রাজেশ শর্মা! গতকালই মিলেছিল খবর, বর্তমানে কী অবস্থার উন্নতি হয়েছে? কোন শঙ্কার কথা শোনালেন চিকিৎসকরা?
অভিনেত্রীর বিশ্বাস, বাংলা মঞ্চের স্বাধীন প্রযোজনাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে দর্শকদের সমর্থন অত্যন্ত জরুরি। তাই তিনি সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আগামী ১২ জুলাই সন্ধ্যায় উত্তম মঞ্চে উপস্থিত থেকে ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’ দেখার জন্য। তাঁর আশা, নতুন গল্প, নতুন গান এবং সম্পূর্ণ মৌলিক উপস্থাপনা দর্শকদের ভালো লাগবে। একই সঙ্গে অতীতের স্মৃতি এবং বর্তমানের নতুন স্বপ্নকে একসঙ্গে নিয়েই তিনি নিজের শিল্পীজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করতে চান।
