বাংলা সিনেমার একসময়ের পরিচিত অভিনেতা লোকেশ ঘোষ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফিরে দেখেছেন তাঁর ছোটবেলার নানান স্মৃতি। সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক কিংবদন্তি নাম। লোকেশের দাবি, টেকনিশিয়ান স্টুডিও তৈরির সঙ্গে তাঁর বাবার সরাসরি যোগ ছিল। ছোটবেলা থেকেই তাই চলচ্চিত্র জগতের বহু নামী অভিনেতা, অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল। তাঁর কথায়, উত্তম কুমার এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকার কোলে চড়ে বড় হওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছিল তাঁর। শৈশবের সেই দিনগুলিতে সিনেমার দুনিয়ার একাধিক তারকাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। আর সেই সূত্রেই মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে অভিনেতার বক্তব্যে।
লোকেশ ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ছিলেন উত্তম কুমারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শুধু বন্ধুত্বই নয়, দু’জনে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতেও কাজ করেছিলেন বলে দাবি অভিনেতার। ফলে উত্তম কুমারকে ঘিরে তাঁর শৈশবের স্মৃতির পরিধিও ছিল বেশ গভীর। লোকেশের বক্তব্য অনুযায়ী, তখনকার দিনে তাঁদের বাড়ি এবং চলচ্চিত্রের জগতের মধ্যে আলাদা কোনও দূরত্ব ছিল না। বাবার সূত্রে তিনি নিয়মিতই সিনেমার বহু পরিচিত মুখকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেতেন। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় থেকে উত্তম কুমার, একাধিক তারকার সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার এমনই নানান স্মৃতি রয়েছে। সেই সময়কার অভিজ্ঞতাই আজও তাঁর কাছে বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশেষ স্মৃতি বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।
এই প্রসঙ্গেই লোকেশ ঘোষ বাংলা সিনেমার একটি জনপ্রিয় ছবিকে ঘিরে চমকপ্রদ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শক্তি সামন্ত পরিচালিত ‘অমানুষ’ ছবিতে শর্মিলা ঠাকুরের বিপরীতে প্রথমে উত্তম কুমারের অভিনয় করার কথা ছিল না। অভিনেতার দাবি, সেই জায়গায় প্রথমে রাজেশ খান্নাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বাবা বারবার শক্তি সামন্তকে অনুরোধ করেছিলেন নায়ক বদল করে উত্তমকুমারকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাতেই নাকি ছবির নায়ক হিসেবে উত্তম কুমার জায়গা করে নেন। এরপর উত্তম কুমার এবং শর্মিলা ঠাকুরের জুটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লোকেশের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সিদ্ধান্তের ফলাফলই পরবর্তীতে বাংলা ও হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠতার কথা বলতে গিয়ে লোকেশের নিজের ছোটবেলার কথাও বারবার সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সঙ্গেও তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। তাই চলচ্চিত্রের জগতের একাধিক বড় তারকাকে খুব কাছ থেকে দেখেই তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই তালিকায় উত্তম কুমার ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। অভিনেতার কথায়, ছোটবেলায় মহানায়ক এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের স্নেহ পাওয়ার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। একইসঙ্গে বাবার বন্ধু হিসেবে উত্তম কুমারের সঙ্গে পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও ছিল। ফলে পর্দার মহানায়ককে শুধু দূরের তারকা হিসেবে নয়, বরং শৈশবের পরিচিত একজন মানুষ হিসেবেও দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার টাকা, আমার পেট, আর কী খাব ঠিক করবে অন্য কেউ?’, গোরুর মাংস বিতর্কে ট্রোলদের কড়া জবাব বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর!
প্রসঙ্গত, লোকেশ ঘোষ এর আগে তাঁর অভিনয় জীবন এবং চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও একাধিকবার কথা বলেছেন। ‘লোফার’, ‘আসল নকল’, ‘রাখী পূর্ণিমা’, ‘শ্রীমান ভূতনাথ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মা ছিলেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বাবা ছিলেন প্রযোজক বলে জানিয়েছেন লোকেশ। সম্প্রতি তাঁর বলা শৈশবের এই স্মৃতি ফের বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা এবং ‘অমানুষ’ ছবির নায়ক নির্বাচনের দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। তবে ‘অমানুষ’ ছবিকে ঘিরে তাঁর এই বক্তব্যও তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে, এর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনও তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
