টলিউড অভিনেত্রী ‘সম্পূর্ণা লাহিড়ী’র (Sampurna Lahiri) জীবনে গত কয়েক মাস যে কী ভয়ানক শূন্যতা নিয়ে এসেছে, তা এদিন তাঁর কথাতেই স্পষ্ট! বাবা, বিশিষ্ট অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ীকে হারানোর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই সম্প্রতি মাকেও হারাতে হয়েছে তাঁকে! মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দুই অভিভাবকের চলে যাওয়া যে কোনও সন্তানের কাছেই অসহনীয়, সেই যন্ত্রণার কথাই যেন নীরবে ছুঁয়ে গেল সম্পূর্ণার ভাগ করে নেওয়া অনুভূতিগুলোতে!
প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ী দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভুগছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত আর জেতা সম্ভব হয়নি তাঁর। গত বছর ২৯ শে জুলাই, মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তিনি চলে যাওয়ার পর থেকেই ভেঙে পড়েছিলেন সম্পূর্ণার মা। স্বামীর শূন্যতা, মানসিক আঘাত আর শারীরিক দুর্বলতা মিলিয়ে তিনিও ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই অসুস্থতাই শেষ পর্যন্ত মেয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেয় তাঁকে!
সমাজ মাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে কিছু লেখা লিখেছেন অভিনেত্রী। এদিন সম্পূর্ণার কথায় উঠে এসেছে তাঁর বাবা-মায়ের সম্পর্কের গভীরতা। ছোটবেলা থেকে যাঁদের একসঙ্গে দেখেছেন, যাঁদের বন্ধন ছিল অবিচ্ছেদ্য এবং তাঁদের আলাদা করে কল্পনাই করতে পারেননি তিনি! বাবার চলে যাওয়ার পর মায়েরও এত তাড়াতাড়ি বিদায় নেওয়ার পেছনে সেই গভীর টানকেই যেন অনুভব করেন অভিনেত্রী। আলাদা হয়ে থাকার যন্ত্রণাটা হয়তো তাঁর মা সহ্য করতে পারেননি।
এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি দেখছেন এই চিরকালীন বিচ্ছেদকে! এছাড়াও নিজের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সম্পূর্ণা গর্বের সঙ্গেই জানিয়েছেন, এমন বাবা-মায়ের সন্তান হতে পারা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো। আজ তাঁরা পাশে নেই, তবু তাঁদের শেখানো মূল্যবোধ, ভালোবাসা আর আশীর্বাদই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি দেবে বলেই তিনি ভরসা রাখছেন। ‘কোথাও না কোথাও তাঁরা শান্তিতে আছেন, সুখে আছেন’, এই ভাবনাটাই তাঁকে একটু হলেও শান্তি দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “বাংলার সাই পল্লবী, আমাদের শিরিন পাল!” সাদামাটা পোশাক, খোলা চুল আর আত্মবিশ্বাসেই মন জয় শিরিনের! মেকআপহীন লুকে বুধবারের অনুষ্ঠানে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী, সমাজ মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়!
উল্লেখ্য, তবে শূন্যতার অনুভূতিটা অস্বীকার করেননি অভিনেত্রী। হঠাৎ করেই নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছে তাঁর। প্রতিদিনের জীবনে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি যেন আরও বেশি করে চোখে পড়ছে এখন। তবু তিনি মনে করেন, শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও তাঁরা সবসময়ই তাঁর সঙ্গে আছেন, দেখছেন আর পথ দেখাচ্ছেন। আবার একদিন দেখা হবে, সেই আশাতেই অপেক্ষা করে থাকার শক্তিটুকু খুঁজে নিচ্ছেন সম্পূর্ণা লাহিড়ী। আমরাও অভিনেত্রীর এই কঠিন সময়, সমবেদনা জানাচ্ছি।
