গতকাল, বুধবারের জমজমাট অনুষ্ঠানে নবাগতা অভিনেত্রী ‘শিরিন পাল’কে (Shirin Paul) দেখে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়েছে, তা তাঁর সাজগোজ নয়, বরং সেই সাজগোজের অনুপস্থিতি! আজকের দিনের চেনা গ্ল্যামারের ভিড়ে দাঁড়িয়েও তিনি যেন আলাদা করে নজর কেড়েছেন একেবারে সাধারণভাবে। কালো চুড়িদারের সঙ্গে লাল ওড়না, খোলা চুল আর কোনও স্টাইলিংয়ের বাড়াবাড়ি নেই। মুখে মেকআপের নামগন্ধ নেই বললেই চলে, শুধু কপালে ছোট্ট একটা টিপ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েও এতটা স্বাভাবিক থাকা যে সম্ভব, তা যেন আবার মনে করিয়ে দিল শিরিন ঠিক কী ধরনের অভিনেত্রী হতে চান।
এই সাদামাটা উপস্থিতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমাজ মাধ্যমে প্রশংসার ঢেউ উঠেছে। অনেকেই লিখেছেন, “বাংলার সাই পল্লবী, আমাদের শিরিন পাল!” তুলনাটা নেহাতই এমনি নয়। দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবী যেমন চিরকাল নিজের স্বাভাবিক লুক, কম মেকআপ আর সহজ উপস্থিতির জন্য পরিচিত, শিরিনকেও অনুরাগীরা সেভাবেই দেখতে শুরু করেছেন। ছবিতে বা পর্দায় প্রয়োজন হলে মেকআপ থাকলেও, তা চোখে পড়ার মতো নয়, এই বৈশিষ্ট্যটাই দু’জনের মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা।
প্রসঙ্গত, ছোটপর্দায় শিরিনের সফর শুরু হতেই তাঁকে ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই। জিতু কমলের সঙ্গে তাঁর রসায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। কেউ কেউ বলছেন, এই জুটিতে নতুনত্ব আছে, আবার অনেকের মতে শিরিনের সাবলীল অভিনয়ই পুরো ধারাবাহিকের গল্পে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। তবে বাস্তব জীবনে শিরিন যে নিজের জায়গায় বেশ স্থির, তা বোঝা যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দেখলেই। প্রেমের কথা লুকোনোর চেষ্টা না করে বরাবরই খোলাখুলি থেকেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রেমিক জিৎ সুন্দরও এই বিষয়টায় যথেষ্ট পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বুধবারের অনুষ্ঠানেই সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শিরিনের সাফল্যে তাঁর গর্বই বেশি! পর্দার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বা দর্শকের উন্মাদনায় তাঁর মধ্যে কোনও অস্বস্তি নেই, কারণ তাঁদের সম্পর্কের ভিতটাই বিশ্বাস। এমনকি শিরিনের অভিনয় যেমন তাঁর ভালো লেগেছে, তেমনই জিতু কমলের সহ-অভিনেতা হিসেবে দায়িত্ববোধের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ১৫ কোটির এক অদেখা স্বপ্ন! ভাবুন তো, যদি দেব হতেন শ্মশানবাসী সাধু, যে ছবি বদলে দিতে পারত বাংলা বিনোদনের ভাষা! দেবকে ঘিরে সেই ‘ডার্ক হরর’ ছবির ভাবনা আজও তাড়া করে লেখককে! তৈরি হয়েও কেন হলো না ছবিটি?
থিয়েটার থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ, ক্যামেরার সঙ্গে শিরিনের পরিচয় নতুন নয়। ‘বীরাঙ্গনা’ বা ‘ফাঁদ’-এর মতো কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে আগেই ছিল। এখন অপর্ণা বা অপু চরিত্রে তাঁকে ঘিরে যে উন্মাদনা, তার মাঝেও তিনি নিজের স্বাভাবিকতাটুকু ধরে রাখতে পেরেছেন। যদিও ধারাবাহিকের টিআরপি নিয়ে বিতর্ক আর বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন চিন্তা বাড়াচ্ছে, তবু শিরিনের এই নিখাদ উপস্থিতি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে চড়া আলো বা ভারী মেকআপ ছাড়াও দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া যায়!
