ভাবুন তো, যদি বাংলার বড়পর্দায় হঠাৎ এমন একটি ছবি আসত, যেখানে হাসি বা একশন নেই, চেনা ভয়ের কৌশলও নেই বরং গভীর অন্ধকার, লোকবিশ্বাস আর দর্শনের মিশেলে একেবারে অন্যরকম আমেজ! শ্মশান, চলমান নদী, পূর্ণিমা আর অমাবস্যার অদলবদলে গা ছমছমে এক জগৎ, যেখানে ভয় শুধু চোখে দেখা না, ভেতরে ঢুকে যায়! ঠিক এমনই এক ছবির স্বপ্ন দেখেছিলেন এক লেখক, নাম দেওয়া হয়েছিল “ভূতনাথ” (Bhoothnath)। পরিকল্পনা ছিল বড়, ভাবনা ছিল সাহসী, বাংলা ছবির চেনা গণ্ডি ভেঙে একেবারে ‘ডার্ক ফোক’ হররের দিকে হাঁটার চেষ্টা।
প্রসঙ্গত, এই ছবির কেন্দ্রে যাকে কল্পনা করা হয়েছিল, তিনি আজকের মেগাস্টার ‘দেব (Dev)। তবে আমরা যাঁকে এতদিন রোম্যান্টিক বা অ্যাকশন হিরো হিসেবে দেখে এসেছি, সেই দেব নন। এখানে তিনি শ্মশানবাসী, জটাধারী শিবভক্ত এক চরিত্র, যার মধ্যে একদিকে শিশুসুলভ সরলতা, অন্যদিকে সময় আর ন্যায়ের নির্মম রূপ! এই দেব অন্যায়ের বিচার করেন, কিন্তু তা কোনও চেনা নায়কোচিত উপায়ে নয়। গীতার দর্শন, মৃ’ত্যুর গন্ধ আর লোককথার অন্ধকার মিলিয়ে এক এমন উপস্থিতি, যা বাংলা স্ক্রিনে খুব কমই কল্পনা করা হয়েছে।
এই গল্পটা শুধু ভাবনার খাতায় ছিল না। পুরো চিত্রনাট্য তৈরি, চরিত্র বাছাই নিয়ে ভাবনাও এগোচ্ছিল। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষের মতো অভিনেতাদের নিয়ে চরিত্রগুলো সাজানো হচ্ছিল মনে মনে। সিনেমাটোগ্রাফি, মেকআপ মিলিয়ে এক আন্তর্জাতিক মানের কাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন লেখক। কিন্তু জীবন যেমন হয়, হঠাৎ সব থমকে যায়! মায়ের গুরুতর অসুস্থতা সেই স্বপ্নের মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন সিনেমা নয়, কেরিয়ার নয়, সবচেয়ে জরুরি হয়ে ওঠে একজন সন্তানের দায়িত্ব!
২০২১ সালে লেখা সেই সেই গল্প আজও আছে, হারিয়ে যায়নি। লেখা বাক্সবন্দী হলেও চরিত্র আর দৃশ্যগুলো লেখকের মাথার ভেতর বেঁচে আছে। আর আজ যখন দেব নিজেকে ভাঙছেন, নতুন ধারার কাজে ঝুঁকছেন, তখন আবার সেই পুরনো স্বপ্ন নাড়া দিয়েছে তাঁকে! যদি এই গল্পটা সময়মতো পর্দায় আসত, তাহলে হয়তো দেবকে আমরা একেবারে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারতাম। একজন অভিনেতা হিসেবে, যিনি অন্ধকার চরিত্রের ভেতর দিয়েও দর্শককে টেনে নিতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান! ‘নেতাজি’র পর বহু বছর, দীর্ঘদিন পর বাংলা ধারাবাহিকে প্রত্যাবর্তন অঙ্কিত মজুমদারের! নায়ক হিসেবেই কি ফিরলেন পরিচিত মুখ? কোন ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাঁকে?
উল্লেখ্য, এতক্ষণ যে ছবির গল্প নিয়ে আলোচনা হল। সেই গল্পটি লিখেছেন ‘বিজয়’ নামের এক উদীয়মান লেখক। এদিন তিনি নিজের সমাজ মাধ্যমে সমস্ত ঘটনা তুলে ধরে, মেগাস্টারের জন্য কিছু বার্তাও দিয়েছেন। এই লেখার শেষটা কোনও অভিযোগে নয়, বরং ছিল এক আর্জি। লেখক আজও চান না পারিশ্রমিক, চান না নিশ্চয়তা। শুধু চান একদিন যদি সময় হয়, দেব যেন এই গল্পটা একবার শোনেন। হয়তো তখন ‘ভূতনাথ’ আবার আলো দেখবে, হয়তো দেখবে না। কিন্তু বাংলা ছবির ইতিহাসে এমন একটা সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেওয়াই এই লেখার আসল উদ্দেশ্য।
