বাংলার টেলিভিশনের দর্শকদের স্মৃতিতে ‘অঙ্কিত মজুমদার’ (Ankit Mazumder) মানেই একসময় ‘ছোট নেতাজি’। খুব অল্প বয়সেই এমন এক চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনি, যা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে টাটকা। যদিও তখন তিনি নিজেই হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি সেই কাজের গুরুত্ব কতটা গভীর, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় তাঁর জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে সেটাকে আর আলাদা করে দেখার উপায় থাকে না। শিশু শিল্পী হিসেবে শুরু হলেও, অঙ্কিত নিজেকে বুঝেছেন এবং নিজের পথ খুঁজেছেন।
এখন অঙ্কিত সতেরো বছরের কিশোর, পড়াশোনা করছেন ক্লাস ইলেভেনে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁর দিন কাটে বই, নিজের হাতে লেখা গল্প, আঁকাআঁকি আর চরিত্র নিয়ে ভাবনায়। কিছু মাস আগেই একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ঘর, বইয়ের তাক আর নোটবুক দেখাতে গিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, অভিনয়ের বাইরেও সৃজনশীলতার প্রতি তাঁর টান কতটা গভীর। তাঁর কাছে অভিনয় শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়, বরং ভেতর থেকে একটা চরিত্রকে অনুভব করা। কাজ শেষ হলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই ফাঁকা সময়টাই তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টকর।
এই প্রসঙ্গ ধরেই অঙ্কিত বারবার বলেছেন, তিনি কখনওই এক ধাঁচের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না। নেতাজির মতো শক্তিশালী একটি চরিত্র করার পরও সচেতনভাবেই তিনি একই ধরনের প্রস্তাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। এমনকি বিবেকানন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এলেও তা গ্রহণ করেননি, শুধুমাত্র টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। পরবর্তীকালে ওয়েব সিরিজে ‘সাইকো’ কিলারের মতো চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় ক্ষমতার অন্য দিকও দেখিয়েছেন। নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন অভিজ্ঞতাতেই তিনি স্বচ্ছন্দ।
এই পথচলার মাঝেই দীর্ঘদিন পর আবার ছোটপর্দায় ফিরেছেন অঙ্কিত মজুমদার। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক “কনে দেখা আলো”-তে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। তবে এবার আর কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়, বরং গল্পের প্রয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি। ধারাবাহিকের বর্তমান গল্প অনুযায়ী, লাজু ডাক্তারি পড়তে শহরের একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে, আর সেখানেই তার সহপাঠীর চরিত্রে এন্ট্রি নিয়েছে অঙ্কিত। ছোট পরিসরের চরিত্র হলেও, অভিনয়ে তাঁর সাবলীলতা চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুনঃ “এটা প্লেন না, বাস!” “উজি দিদির পাওয়ার আছে, প্লেনের জানলা খোলা তাও মাঝ আকাশে!” উজি-ঋষির হানিমুন যাত্রার দৃশ্য ভাইরাল হতেই, ‘জোয়ার ভাঁটা’ নিয়ে হাসির রোল নেটপাড়ায়!
উল্লেখ্য, ভবিষ্যৎ নিয়ে অঙ্কিত খুব বেশি বড় বড় কথা বলেন না। অভিনয়ের পাশাপাশি একদিন পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছে আছে, গল্পের ভেতর থেকে গল্প বলতে চান তিনি। দর্শকরা তাঁকে আজীবন ‘ছোট নেতাজি’ হিসেবেই মনে রাখুন বা নতুন কোনও পরিচয়ে চিনুন, সেটা সময়ই ঠিক করবে। তবে নিজের কাজের বৈচিত্র্য আর ধৈর্যের মাধ্যমেই যে তিনি আলাদা একটা জায়গা তৈরি করতে চান, সেটুকু স্পষ্ট। ধীরে, নিজের মতো করেই এগোতে চান এই তরুণ শিল্পী।
