মুম্বই শহরে প্রথম পা রাখার সময় তাঁর মনে একটাই স্বপ্ন ছিল, একবার অন্তত মধুবালার সঙ্গে কাজ করবেন, কাছ থেকে দেখবেন সেই কিংবদন্তি রূপসীকে। কিন্তু ভাগ্য সেই সুযোগ আর দেয়নি। তবু তাঁর মুগ্ধতা কখনও কমেনি। কিশোর কুমারের কাছে শোনা অসংখ্য গল্প আর স্টুডিয়োর আড্ডাই হয়ে উঠেছিল মধুবালাকে চেনার একমাত্র জানালা।
কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল গভীর, তাই মধুবালার ব্যক্তিগত জীবনের বহু কথা তিনি শুনেছেন সোজাসুজি কিশোরের মুখেই। প্রেম, বিয়ে, আর তার পরের অসম্পূর্ণ সংসারের কষ্টের স্মৃতি বারবার ফিরে আসত কথোপকথনে। কিশোরের কণ্ঠে সেই আক্ষেপ স্পষ্ট ছিল, ভালোবাসা পেয়েও একসঙ্গে জীবন কাটানোর সুযোগ না পাওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে ছুঁয়ে যেত।
মধুবালার সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর মুগ্ধতা ছিল সীমাহীন। তিনি মনে করতেন ভারতীয় সিনেমার পর্দায় এমন রূপসী আর আসেননি। মুম্বইয়ে তাঁকে সবাই ডাকত ভেনাস নামে, যেন রূপকথার এক রাণী। বাংলার সুচিত্রা সেন কিংবা সুমিত্রা দেবীর সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা টানলেও তাঁর মনে মধুবালার স্থান ছিল আলাদা, অনন্য এবং চিরস্মরণীয়।
পরবর্তী সময়ে মধুবালার বোনের স্টুডিয়োতে যাতায়াতের সূত্রে আরও অনেক অজানা গল্প সামনে আসে। জানা যায় দিলীপ কুমারের সঙ্গে তাঁর গভীর প্রেমের কথা, যা শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি পারিবারিক আপত্তির কারণে। সেই অসম্পূর্ণ সম্পর্ক, ভেঙে যাওয়া ছবি আর আইনি টানাপোড়েন মিলিয়ে এক বিষণ্ন অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে চলচ্চিত্র ইতিহাসে।
আরও পড়ুনঃ প্রেম দিবসে চোখে জল আরাত্রিকার! প্রিয় মানুষের থেকে উপহার পেয়ে, মুহূর্তে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী! কে হঠাৎ সারপ্রাইজ দিল তাঁকে?
মুঘল এ আজম ছবির শুটিংয়ের নানা কাহিনিও তাঁর কানে পৌঁছেছিল পরিচালকের মুখে। কঠোর শুটিং, ভারী শিকল, অসহ্য গরম আর তবুও পর্দায় নিখুঁত অভিব্যক্তি তুলে ধরার জেদ এক অন্য মধুবালাকে সামনে আনে। তাঁর কাছে মধুবালা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, এক বিরল সৌন্দর্য আর নিবেদনের প্রতীক, যাঁকে না দেখার আক্ষেপ আজও অমলিন।
