জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বদলা শুনতে চাইনি, বদল চেয়েছিলাম, আপনাকে খুব ভালোবাসতাম, কিন্তু আপনি বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিলেন” মমতাকে খোলা চিঠিতে আবেগঘন বার্তা মৈত্রেয়ী মিত্রের

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ মৈত্রেয়ী মিত্র এবার রাজনৈতিক ফলাফলের আবহে মুখ খুললেন খোলা চিঠির মাধ্যমে। নিজের অভিনয় দক্ষতা ও দৃঢ় চরিত্রাভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে দীর্ঘ বার্তা লিখেছেন। চিঠির শুরুতেই তিনি জানান, নির্বাচনের আগে বহুবার শুনেছেন সরকার বদল হলে বাঙালিদের মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “মাননীয়া, নির্বাচনের আগে বহুবার বিভিন্ন মঞ্চে শুনেছি সরকার বদল হলে বাঙালিদের মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তখন চুপ থাকতে হয়েছে।” এরপরই তিনি বলেন, শুধু বাংলার মানুষই মাছ খান না, দেশের বহু রাজ্যেই মানুষ মাছ খান এবং কোথাও তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, এই বক্তব্য ছিল ভোটের আগে ভয় দেখানোর কৌশল।

মৈত্রেয়ী আরও লেখেন, “আসলে এটা আপনার নির্বাচনের একটা কৌশল ছিল, যা অনেকটা বাচ্চাদের মা যেমন ভয় দেখায় খেয়ে নাও নইলে জুজু আসবে, অনেকটা তেমন, আমায় ভোট দাও নইলে জুজু আসবে।” অভিনেত্রীর মতে, এই ধরনের প্রচার এখন আর মানুষ গ্রহণ করছেন না। তিনি লেখেন, “আপনার এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। আমরা জুজু দেখতে দেখতে ক্লান্ত সেটা কি আপনি বুঝতে পারেন?” তাঁর কথায়, রাজ্যের মানুষ এখন শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে চান। রাজনৈতিক ভয়, বিভাজন বা উত্তেজনার বদলে সাধারণ মানুষ স্থিতিশীল জীবন চায় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

চিঠিতে তিনি ২০১১ সালের কথা স্মরণ করেন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উচ্ছ্বাস ছিল। মৈত্রেয়ী লেখেন, “আজও মনে আছে ২০১১ সালে আপনার শপথ গ্রহণের সময় সে কি রোমাঞ্চ, কি উত্তেজনা।” তিনি জানান, সেই জয় শুধু একজন নেত্রীর জয় ছিল না, তা ছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশা ও আবেগের প্রতিফলন। এরপর প্রশ্ন তোলেন, “সেই ভালোবাসা আজ হারিয়ে গেলো কেন একটু ভেবে দেখবেন আপনি।” তাঁর মতে, মানুষের ভালোবাসা ধরে রাখা যেত যদি মানুষকে সম্মান ও আস্থা দেওয়া হত। কিন্তু তার বদলে মানুষকে দমিয়ে রাখা, ভয় দেখানো এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

অভিনেত্রী আরও লেখেন, “আপনি আপনার রাজ্যের মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জিততে পারতেন, কিন্তু আপনি আমাদের দমিয়ে রাখলেন, কিনে নিতে চাইলেন, বাক্ স্বাধীনতা কেড়ে নিলেন, ভয় দেখিয়ে রাখলেন।” যদিও তিনি এও বলেন, হয়তো সব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছিল না, কিন্তু দলের কর্মীদের আচরণ থামানো হয়নি। তাই দায় এড়ানো যায় না বলেও তাঁর মত। একই সঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তি মানুষ হিসেবে আজও মমতাকে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর কথায়, “আপনাকে আমি খুব পছন্দ করতুম, আজও ব্যক্তি মানুষটিকে শ্রদ্ধা করি।” এমনকি একবার সামনে থেকে দেখার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠির শেষ অংশে মৈত্রেয়ী লেখেন, “আমি আজও চাইব আপনি প্রকৃত জননেত্রী হয়ে ফিরে আসুন। আপনার কাছে আমরা বদলা শুনতে চাইনি, বদল আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।” তিনি বলেন, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করলে মানুষ নেতাকে মাথায় রাখে, কিন্তু মানুষের উপর উঠে বসতে গেলে ফল অন্যরকম হয়। তাঁর ভাষায়, অভিযোগ ও অভিমান জমে আছে, তা হিংসা দিয়ে নয়, ভালোবাসা ও সহানুভূতি দিয়ে মেটাতে হবে। আরও লেখেন, “আজ আপনার পরাজয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু আপনি নন, যে এই করবেন, তাকেই সরতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, জনতা জনার্দন।” শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভুল শুধরে একদিন আগের সেই জনপ্রিয় মানুষ হিসেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরবেন। পাশাপাশি প্রণাম জানিয়ে তাঁর সুস্থতা কামনাও করেন অভিনেত্রী।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page