বনগাঁয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে টলিউডে। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তনয়কে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর অনুগামীরা থানায় জড়ো হন। মুহূর্তের মধ্যে থানা চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ এবং উত্তেজনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ এলাকায় যুবক সংঘের উদ্যোগে একটি বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করেই ক্লাবের এক কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে পড়েন। তিনি মিমির পরিবেশনার মাঝে বাধা দেন এবং তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। প্রকাশ্যে এমন আচরণে নিজেকে অপমানিত ও হেনস্তার শিকার বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।
যদিও এই ঘটনায় আয়োজকদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। উদ্যোক্তাদের দাবি, মিমি চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানে আসার নির্ধারিত সময় ছিল রাত সাড়ে দশটা। কিন্তু তিনি পৌঁছন প্রায় পৌনে বারোটার সময়। সামনে স্কুলের পরীক্ষা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ ছিল রাত বারোটার মধ্যেই মাইক বন্ধ করে অনুষ্ঠান শেষ করার। সেই কারণে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান চালানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি আয়োজকদের।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় উত্তেজনা ছড়ালেও বড় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে অভিনেত্রীর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
আরও পড়ুনঃ রাণী মা আসছেন! ছোটপর্দায় ভক্তিরসের প্রত্যাবর্তন, ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’র পর আবারও পৌরাণিক চরিত্রে দিতিপ্রিয়া রায়? জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক নিয়ে চর্চা তুঙ্গে! আপনারা কতটা উৎসাহী অভিনেত্রীকে দেখার জন্য?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াগোপালগঞ্জ এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, আবার কেউ আয়োজকদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে।
