বিনোদন জগতে সাফল্যের গল্প যতটা ঝলমলে, তার পেছনের লড়াই ততটাই কঠিন। কেউ ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে, আবার কারও জীবনে অভিনয় একেবারে অপ্রত্যাশিত ভাবে এসে ধরা দেয়। প্রত্যাখ্যান, অডিশনের চাপ, অভিজ্ঞদের বকুনি—সব মিলিয়ে পথটা মোটেই সহজ নয়। তবু সেই লড়াই থেকেই তৈরি হয় এক একজন শিল্পীর আলাদা পরিচয়।
এই মুহূর্তে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে বনলতা চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। পর্দায় তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনেকেরই প্রশংসা পেয়েছে। তবে অবাক করা বিষয়, অভিনয়ে আসার কোনও ইচ্ছে নাকি প্রথমে ছিলই না নন্দিনীর। ছোটবেলা থেকে তিনি নাচ করতেন, আর স্বপ্ন দেখতেন উকিল হওয়ার। টিকটক ভিডিও বানানো থেকেই আসে প্রথম অফার।
এরপর একের পর এক অডিশন, আর শেষমেশ ‘এখানে আকাশ নীল’ ধারাবাহিকে নায়িকার বোনের চরিত্রে সুযোগ—সেখান থেকেই শুরু তার অভিনয় জীবন। তবে, শুরুর দিনগুলো মোটেই সুখকর ছিল না। নন্দিনী জানিয়েছেন, নতুন শিল্পীদের উপরেই নাকি ইন্ডাস্ট্রির রাগ বেশি গিয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই বকা শুনতে হতো তাকে। নিজেও মনে করতেন, তিনি কিছুই পারেন না। এমনকি একসময় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন।
বাড়ি ফেরার পথে মেট্রোতে বসে কাঁদার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু সময় বদলেছে। একের পর এক ধারাবাহিকে সুযোগ পেয়ে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান অভিনেত্রী। এরপর দর্শকরা তাকে দেখেছেন দুই শালিক (ঝিলিক চরিত্রে), বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি, রামকৃষ্ণা, আলো ছায়া, তিতলি ও গৌরী এলো-সহ একাধিক ধারাবাহিকে। নন্দিনীর কথায়, তিনি কখনও নিজেকে ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ইউজ’ হতে দেননি।
আরও পড়ুনঃ “ভালোবাসা যে কোনও বয়সের সুন্দর একটি অনুভূতি” ভালোবাসার মাসে প্রেম জীবন নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়! পর্দার ‘গোরা’র কাছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আসল মানে কী? কীভাবে করলেন উদযাপন?
একসময় যারা তাকে যথেষ্ট মনে করতেন না, তারাই আজ প্রশংসা করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা তিনি। ভুল করলে মানুষকে ক্ষমা করে দেন, নিজে প্যাম্পার হতে ভালোবাসেন, যদিও সেই সুযোগ নাকি খুব একটা পান না। বর্তমানে তিনি সিঙ্গেল এবং নিজের ইচ্ছেতেইএই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানসিকভাবে এখন কোনও সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত নন বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
