জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকে হরিপ্রসাদ মিত্রের দুই মেয়েকে ঘিরে রহস্য যেন আরও ঘনিয়ে উঠেছে। শহরে আসার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, বাবার মৃ’ত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া। কিন্তু পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক না কেন, বাস্তব সবসময় নিজের মতো করে খেলাটা ঘুরিয়েই দেয়। ঋষিকে বিয়ের পর, সেই পরিবারকে নিজের ভেবে উজি এমন এক অবস্থানে পৌঁছে গেছে, যা হয়তো সে নিজেও কল্পনা করেনি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দাঁড়াতে, তাদের বিশ্বাস জিততে জিততে সে অজান্তেই হয়ে ওঠে সবার কাছের মানুষ।
তার পরিচয় নিয়ে যতই সন্দেহ থাকুক, তার আচরণে ধরা পড়েছে এক অদ্ভুত আন্তরিকতা। ঋষির সঙ্গে তার সম্পর্কও ঠিক তেমনই অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যায়। বাধ্য হয়ে যে বিয়ে, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় টান! উজি নিজের মনে কখন যে স্বামীকে জায়গা দিয়েছে, সেটা সে হয়তো কাউকে বলেনি, কিন্তু তার আচরণে সেটা স্পষ্ট। অন্যদিকে ঋষিও স্ত্রীর ভেতরের দ্বন্দ্ব বুঝতে না পারলেও তার প্রতি একটা আলাদা বিশ্বাস গড়ে তোলে।
কিন্তু সেই বিশ্বাসে চিড় ধরে যখন সত্যি সামনে আসে। উজির আসল পরিচয় জানার মুহূর্তে ঋষির নিঃশব্দ হয়ে যাওয়াটা যেন অনেক না বলা কথার চেয়ে বেশি জোরালো। এদিকে নিশা একেবারেই আলাদা পথে হাঁটে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, ঋষি ও তার পরিবারকে ধ্বংস করা। বারবার চেষ্টা, নতুন পরিকল্পনা, লুকিয়ে থাকা মিলিয়ে সে যেন ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায়। পুলিশ যখন জানায় নিশা এনকাউন্টারে মা’রা গেছে, তখনই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। খবরটা শুনে উজি নিজের সংযম রাখতে পারে না!
কাউকে কিছু না জানিয়ে সে ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। আর সেখানেই ঘটে বড় ভুল! মাটিতে পড়ে থাকা এক মহিলাকে নিজের দিদি ভেবে এগিয়ে যাওয়াটা ছিল পুলিশের পাতা ফাঁদ! মুহূর্তের মধ্যেই তার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসে। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উজি বুঝতে পারে, আবেগের বশে সে এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফল এড়ানো যাবে না। ঋষির সামনে সব পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর সম্পর্কের ভিত্তিটাই কেঁপে ওঠে। একদিকে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি, অন্যদিকে একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি, দুটোর টানাপোড়েনে আটকে পড়ে ঋষি।
আরও পড়ুনঃ “অনেক দুর্ব্যবহার সহ্য করেছি…বাড়ি ফেরার পথে মেট্রোতে বসে কেঁদে ফেলতাম” নবাগতদের প্রতি আচরণ নিয়ে বি’স্ফোরক নন্দিনী দত্ত! একসময় ‘এনাফ নয়’ তকমা আর অপমানেই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ‘কনে দেখা আলো’-র বনলতা?
সে রাগ করবে, না বোঝার চেষ্টা করবে? সেই দ্বিধা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার নীরবতায়। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে নিশার মধ্যে। সে বেঁচে আছে, আর আগের চেয়ে আরও কঠোর! উজিকে যেভাবে ফাঁসানো হয়েছে, সেটা তার কাছে ব্যক্তিগত অপমানের মতো। এবার তার লক্ষ্য শুধু প্রতিশোধ নয়, পরিকল্পিত প্রত্যাঘাত! ফলে প্রশ্ন উঠছে, উজি-ঋষির সম্পর্ক কি এই সত্যের ভার সামলাতে পারবে? আর নিশা কি সত্যিই তার প্রতিশোধ সম্পূর্ণ করতে পারবে, নাকি আবারও ভাগ্য তাদের জীবনে অন্য কোনও মোড় নিয়ে আসবে?
