বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম (Social Media) তারকাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। নিজেদের কাজ, ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা মতামত ভাগ করে তাঁরা সারা পৃথিবী এবং অগণিত ভক্তদের হাত দিয়েই ছেড়ে দেওয়া যেত সঙ্গে সংযোগ রাখেন। কিন্তু এই সামাজিক মাধ্যমই বিভিন্ন সময় সমালোচনা, ট্রোলিং (Trolling) এবং অপমানজনক মন্তব্যে ভরে ওঠে। টলিপাড়ার (Tollywood) অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী বারবার এমন কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত মত নিয়ে ট্রোলিং এখন যেন ট্রেন্ডের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে!
অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। প্রসঙ্গত, তাঁর বিয়ের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে তুমুল ট্রলিং হয়! বিশেষ করে, তিনি পিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে। পিয়া অতীতে যেহেতু গায়ক অনুপম রায়ের স্ত্রী ছিলেন এবং বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় ২০২১ সালে। এই সংবাদ প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষ আর মিমের ঢেউ বইয়ে যায়। তাঁকে তখন বলা হয়েছিল, “বউ ভাগিয়ে বিয়ে করা চোর!” এত ট্রোলিং এবং সমালোচনার মধ্যে দিয়ে পরমব্রত মানসিকভাবে নিজেকে ভাঙতে দেননি,
এটা যেন স্পষ্ট করেছে যে তিনি ঠিক কতটা ধৈর্য এবং সংযমের মানুষ। পরমব্রত নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এদিন বলেন, “আমি আগে ব্যক্তিগত হোক বা রাজনৈতিক, সব বিষয়ে মতামত প্রকাশ করতাম, এখন কিন্তু আর করি না! নিজের জীবনকে সেলুলয়েডের মতো সুরক্ষিত করে তুলছি ধীরে ধীরে। মানুষ যে এই ধরনের কথাও পাব্লিক ফোরামে বলতে পারে, তা আমি বিশ্বাসই করতে পারি না আজও!” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ট্রোলিং কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে একজন ব্যক্তির উপর, বিশেষ করে যখন তা ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে জড়িত।
তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে নিজেকে মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখা কতটা জরুরি। তিনি তাই বলেছেন, “বিয়ের পর থেকেই আর সক্রিয় থাকি না, নিজের চামড়া সরিয়ে গণ্ডারের চামড়া তৈরি করে নিয়েছি!” তবে, সমাজ মাধ্যমে নেতিবাচক দিক সত্ত্বেও এই মাধ্যমটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের মাধ্যমও। সম্প্রতি পরমব্রত এবং পিয়ার ঘরে এসেছে তাদের সন্তান নিষাদ। এই ধরনের সুখের মুহূর্তগুলোও শেয়ার করা যায়, কিন্তু অনেক সময় ফ্যানরা বা নেটিজেনদের কটাক্ষ এই আনন্দকে ছায়া ফেলে।
আরও পড়ুনঃ “সফল কাজ ছেড়ে কেউ সহজে বেরোয় না, ওই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তটা একান্তই আমার ছিল!” গোপালের আকস্মিক বিদা’য়, ‘পরিণীতা’ ছাড়ার কারণ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গোপাল ওরফে দ্রোণ মুখোপাধ্যায়!
এরপরেও টলিপাড়ার অনেকে এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে চাপ এবং ট্রোলিং সত্ত্বেও পরমব্রত ধীরে ধীরে নিজের কাজের জগতে ফিরেছেন। কয়েক মাস টলিউড ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকার পর তিনি আবার চলচ্চিত্র জগতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন। তিনিই প্রমাণ, কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন মানুষ নিজের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে পারে। সামাজিক মাধ্যমকে এড়ানো বা সংযমীভাবে ব্যবহার করা এখন অনেকের জন্য জরুরি আর পরমব্রত সেটি সফলভাবে করছেন।
