বিনোদন জগতে প্রতিভার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। পর্দায় কে কেমন দেখাচ্ছে, গায়ের রং কী, কোন লুকে কাকে মানাচ্ছে —এই সব নিয়েই শুরু হয় আলোচনা, সমালোচনা। অনেক সময় সেই মন্তব্য গিয়ে দাঁড়ায় কটাক্ষে, যা নতুন শিল্পীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারে। তবুও এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে আত্মবিশ্বাস আর নিজের উপর বিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই উঠে এসেছে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’-র নায়িকা পারুল, অর্থাৎ ঈশানী চ্যাটার্জীর গল্প। দুর্গাপুরের মেয়ে ঈশানীর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে কলকাতায় আসা, আর সেখানেই জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নিজের হাতখরচ চালানোর জন্য শুরু করেছিলেন মডেলিং, যা একদিন তাঁকে পৌঁছে দেয় টেলিভিশনের লিড রোলে।
অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, মডেলিং শুরু করার পিছনে কোনও বড় স্বপ্ন নয়, একেবারে বাস্তব প্রয়োজনই কাজ করেছিল। সেই সময় তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তেমন সক্রিয় ছিলেন না। তবে একটি ফটোশুট তাঁর খুব পছন্দ হওয়ায় সেটি পোস্ট করেছিলেন। সেখান থেকেই অডিশনের ডাক আসে। অডিশন দেওয়ার পরই ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে লিড রোলে সুযোগ পান ঈশানী।
কিন্তু ধারাবাহিক শুরু হতেই সহজ ছিল না তাঁর পথ। অভিনেত্রীর কথায়, প্রথম দিকেই দর্শকদের কাছ থেকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়। কেউ বলেছিলেন দেখতে ভালো নয়, কেউ গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ উদয় প্রতাপ সিং-এর সঙ্গে তাঁকে মানাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন। এমনকি অনেকেই বলেছিলেন আটটার স্লট- এর মতো ইম্পোর্টেন্ট সময় নিলেও এই ধারাবাহিক বেশিদিন চলবে না। এই সব শুনে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, নিজের মনেই প্রশ্ন উঠেছিল—ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন কি না।
আরও পড়ুনঃ “আগে সম্মানটা জরুরি…যার সঙ্গে সম্পর্ক, তার নাম…” নতুন প্রেম প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ‘চিরদিনই’র আর্য স্যার, জিতু কমল! জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও ব্যক্তিগত জীবন নীরব, অভিনেতার কথায় বাড়ল রহস্য! জীবনে কি এসেছে নয়া বসন্ত?
তবে গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষের জবাবে আজ ঈশানীর অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। অভিনেত্রীর কথায়, গায়ের রং তিনি বদলাতে পারবেন না, আর বদলাতে চানও না। ছোটবেলা থেকে স্কুল জীবনেও এই নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে, কিন্তু এখন তিনি নিজের গায়ের রং নিয়েই গর্বিত। ঈশানীর এই আত্মবিশ্বাসই আজ তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিচ্ছে দর্শকদের কাছে।
