জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

পূর্বজন্মের রহস্য ফাঁস হতেই অঘটন! রূপের মৃ’ত্যুর স্মৃতি ফিরে এলো, গোরাও হাঁটছে একই পরিণতির দিকে! প্রকাশ্যে অদ্বিতীয়ার আসল পরিচয়! ‘তারে ধরি ধরি’তে সপ্তম জন্মেও কি মিলন অপূর্ণ থেকে গেল ফুল-মুরারির?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone Kori) শুরু থেকেই দর্শকদের এক মুহূর্তও স্বস্তিতে বসতে দিচ্ছে না! গল্পের গতি এতটাই টানটান যে একটি পর্ব মিস করলেই পরের দিনের ঘটনাপ্রবাহ ধরতে হিমশিম খেতে হয়। আধ্যাত্মিক ভাবনা আর বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন মাঝখানে দাঁড়িয়েই এগোচ্ছে গল্প। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও বিষ্ণুপ্রিয়ার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই গল্পে গোরাচাঁদ গোস্বামীর চরিত্রে বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Biswarup Bandyopadhyay) ধীরে ধীরে এমন এক মানসিক অবস্থার দিকে এগোচ্ছেন, যেখানে অতীত আর বর্তমানের সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

এই গল্পের সবচেয়ে জটিল এবং আকর্ষণীয় দিক নিঃসন্দেহে পল্লবী শর্মার (Pallavi Sharma) দ্বৈত উপস্থিতি। একদিকে আধ্যাত্মিক রূপমঞ্জুরী, যাঁর অস্তিত্ব হয়তো চোখের আড়ালে চলে গেছে, কিন্তু প্রভাব এখনও রয়ে গেছে গোরার জীবনে। অন্যদিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর অদ্বিতীয়া। যে আধুনিক, যুক্তিবাদী, বৈষ্ণব নিয়মের ব্যতিক্রম এক নারী। অথচ ভাগ্যের অদ্ভুত খেলায়, রূপের মতো দেখতে দিতিকে গোরার জীবনে এনে ফেলেছে পরিস্থিতি। স্মৃতিহারা, অসহায় দিতিকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে নতুন জীবনের আশ্রয় দিতে গিয়ে, গোরাই যেন নিজেকে আরও বড় এক জটিলতার মধ্যে জড়িয়ে ফেলেছে।

বাড়ির সবাই যেখানে দিতিকে রূপ হিসেবেই মেনে নিতে শুরু করেছে, সেখানে তার আচরণে বারবার ফাঁক ধরা পড়ছে। আমিষ খাওয়া, ঘরের নিয়ম না মানা মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে তার পরিচয় নিয়ে। সেই সঙ্গে দিতির আসল পরিবারও হাল ছাড়েনি। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তারা মেয়েকে ফেরত চাইছে, আর এই চাপের মধ্যেই গোরার নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হচ্ছে। সে চায় না রূপের প্রতিচ্ছবি দিতি তার জীবন থেকে আবার হারিয়ে যাক। ধীরে ধীরে, অজান্তেই সে দিতিকে রূপের ছাঁচে গড়ে তুলছে, অতীতকে বর্তমানের উপর চাপিয়ে।

এদিকে গল্পে রহস্যের আবহ আরও ঘনীভূত করেছে ত্রিকালদর্শী সাধুদের উপস্থিতি। বিপদের আগে গোরার চোখে ভেসে ওঠা সেই সাধুরাই বারবার দিতিকে তার জীবনের কেন্দ্রে এনে ফেলছে। এই ধারাবাহিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দিতির মনেও বদল আসছে। নিজের অজান্তেই সে রূপের পরিচয়কে আপন করে নিতে শুরু করেছে, গোরাকে স্বামী হিসেবে ভাবছে, পুরনো অভ্যাস ছেড়ে নতুন এক জীবনধারায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দর্শকের মনেও প্রশ্ন, এটা কি ভালোবাসা, না কি পূর্বজন্মের যোগ?

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে সাম্প্রতিক প্রোমোতে। রূপের মৃ’ত্যুর স্মৃতিকে যেন আবার ফিরিয়ে আনছে গল্প! কুন্তলীনি দিতিকে মারতে ঘরের ভেতর সাপ ছাড়া হয়, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই সাপের ছোবল লাগে গোরার পায়ে! যে সাপের কামড়েই একদিন রূপের মৃ’ত্যু হয়েছিল। বাড়ির সবাই আতঙ্কে ভেঙে পড়ে। দিতি তৎক্ষণাৎ অচিনকে জানায়, গোরাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তখন গোরার মায়ের প্রশ্ন, কে নিয়ে যাবে? দিতির দৃঢ় উত্তর, “আমি!” আর সেখানেই নতুন সন্দেহের বীজ। সেঁজুতি মনে করিয়ে দেয়, রূপ তো কখনও গাড়ি চালাতে পারত না। তাহলে কি এই মুহূর্তে সামনে থাকা নারীটি আসলে অদ্বিতীয়া? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আসন্ন এক ঘণ্টার মহাপর্বেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page